ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সঠিক ডায়েট করার পরেও ওজন কমছে না,জেনেনিন আসল কারণ

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১৫:২৬:৩৩

সঠিক ডায়েট করার পরেও ওজন কমছে না,জেনেনিন আসল কারণ

তেলেভাজা কমানো, মেপে খাওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে খাবার—সবই চলছে নিয়ম মেনে। তবু ওজন কমছে না, বরং কোথাও কোথাও মেদ বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এমন সমস্যায় ভোগেন অনেকেই। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—সঠিক ডায়েট মেনেও ওজন কমছে না কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে বড় একটি কারণ হতে পারে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া। কর্টিসলকে সাধারণত ‘স্ট্রেস হরমোন’ বলা হয়। এই হরমোন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয় এবং শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজ—যেমন ঘুম থেকে ওঠা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। তবে দীর্ঘদিন কর্টিসলের মাত্রা বেশি থাকলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে শুরু করে।

মানসিক চাপ, উদ্বেগ, হতাশা বা অনিদ্রা বেড়ে গেলে কর্টিসলের নিঃসরণও বাড়ে। এর ফলে শুধু ওজন বৃদ্ধি নয়, ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা, উদ্বেগ এবং মেজাজের তারতম্যও দেখা দিতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কর্টিসলের ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে না আনতে পারলে স্বাস্থ্যকর ডায়েটের পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন।

সমস্যা হলো, দৈনন্দিন জীবনের অনেক ছোট অভ্যাসই নীরবে কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। প্রিয়জনের মৃত্যু, দুর্ঘটনার খবর, সম্পর্কের টানাপড়েন, কথা কাটাকাটি, অতিরিক্ত কাজের চাপ, ঘুমের ঘাটতি কিংবা অতিরিক্ত শরীরচর্চাও কর্টিসল বাড়ানোর কারণ হতে পারে। আবার অনেকেই সামান্য বিষয়েও অতিরিক্ত চিন্তা করেন, সব কিছু নিয়ে বেশি ভাবেন—ফলে দীর্ঘদিন ধরে তাদের শরীরে কর্টিসলের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে।

তবে জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনলে এবং খাদ্যাভ্যাসে সচেতন হলে কর্টিসল নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ভিটামিন, খনিজ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের সঠিক সমন্বয় থাকা জরুরি। পাশাপাশি প্রক্রিয়াজাত খাবার, অতিরিক্ত চিনি, ক্যাফিন ও মদ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।

কর্টিসল কমাতে যেসব খাবার উপকারী

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার:ওটস, কিনোয়া, ব্রাউন রাইস, বিভিন্ন ডাল, ছোলা ও বিনজাতীয় শস্য রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে, যা কর্টিসল কমাতে সাহায্য করে।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি:টাটকা সবজি, ক্যাপসিকাম ও ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল মানসিক চাপ কমাতে কার্যকর।

প্রোটিনজাতীয় খাবার:কর্টিসল বেড়ে গেলে পেশির ক্ষয় হতে পারে। তা ঠেকাতে ডাল, পনির, ডিম ও মুরগির মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার জরুরি।

স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও বাদাম:আখরোট, পেস্তা, কাঠবাদাম ও বিভিন্ন বীজে থাকা আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ম্যাগনেশিয়াম কর্টিসল নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

প্রোবায়োটিক খাবার:দইয়ের মতো প্রোবায়োটিকসমৃদ্ধ খাবার হজমশক্তি উন্নত করে, যা সামগ্রিকভাবে শরীর ও ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমাতে চাইলে শুধু খাবার নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না, মানসিক শান্তিও জরুরি। উদ্বেগ ও কর্টিসল—দুটিকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে হজম ভালো হবে এবং ওজন কমানোও অনেক সহজ হয়ে উঠবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ