ঢাকা, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও কি গোল্ডেন বুটের হিসাবের মধ্যে পড়ে?

২০২৬ জুলাই ১৬ ২৩:৫২:৪১

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের গোলও কি গোল্ডেন বুটের হিসাবের মধ্যে পড়ে?

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের শিরোপা কার হাতে উঠবে, তা জানার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব। তবে ট্রফির লড়াইয়ের পাশাপাশি সমান আগ্রহ রয়েছে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট নিয়েও। সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিলেও কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, হ্যারি কেইন কিংবা জুড বেলিংহ্যামের মতো ফুটবলারদের সামনে এখনো গোল্ডেন বুট জয়ের সুযোগ রয়েছে। কারণ, বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে করা গোলও গোল্ডেন বুটের হিসাবের সঙ্গে যোগ হয়।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচের আগে সর্বোচ্চ গোলদাতার দৌড়ে রয়েছেন একাধিক তারকা। শনিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। আর রবিবার ফাইনালে শিরোপার জন্য লড়বে স্পেন ও আর্জেন্টিনা।

বর্তমান তালিকায় আটটি করে গোল নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে টাইব্রেকার হিসেবে বেশি অ্যাসিস্ট থাকায় আপাতত এগিয়ে আছেন মেসি। সাত গোল নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছেন নরওয়ের আর্লিং হালান্ড। যদিও কোয়ার্টার ফাইনালেই নরওয়ে বিদায় নেওয়ায় তার গোলসংখ্যা আর বাড়ানোর সুযোগ নেই। ছয় গোল করে দৌড়ে আছেন ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। অন্যদিকে পাঁচটি করে গোল করেছেন ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলে এবং স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল।

শনিবারের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স তাদের শক্তিশালী একাদশ মাঠে নামায় কি না, সেটিও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ ইতিহাস বলছে, এই ম্যাচের গোলই অনেক সময় বদলে দিয়েছে সর্বোচ্চ গোলদাতার ভাগ্য।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্তত সাতজন গোল্ডেন বুটজয়ী তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছেন। তাদের মধ্যে চারজনের ক্ষেত্রে এই ম্যাচের গোলই শেষ পর্যন্ত গোল্ডেন বুট নিশ্চিত করেছে। ২০১০ সালে জার্মানির থমাস মুলার, ১৯৯৮ সালে ক্রোয়েশিয়ার ডাভর সুকের, ১৯৯০ সালে ইতালির সালভাতোরে শিলাচি এবং ১৯৩৮ সালে ব্রাজিলের লিওনিদাস তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেই সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট জিতেছিলেন।

এ ছাড়া পোল্যান্ডের গ্রেগর্জ লাতো, পর্তুগালের কিংবদন্তি ইউসেবিও এবং ফ্রান্সের জ্যঁ ফন্তেইনও তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে গোল করেছিলেন। যদিও তাদের ক্ষেত্রে ওই গোল না থাকলেও টুর্নামেন্টে করা আগের গোলগুলোই গোল্ডেন বুট জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল।

অর্থাৎ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি শুধু সান্ত্বনার লড়াই নয়; অনেক সময় এই ম্যাচই নির্ধারণ করে দেয় টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পরিচয়। তাই ইংল্যান্ড-ফ্রান্স ম্যাচটি শুধু ব্রোঞ্জ পদকের জন্য নয়, গোল্ডেন বুটের দৌড়েও হতে পারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত