ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

কালো জাদু থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন

২০২৬ মে ২০ ১২:৪৬:৪৩

কালো জাদু থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন

সাম্প্রতিক একটি ইউটিউব আলোচনায় ইসলামিক বক্তা আবু ত্বহা মুহাম্মদ আদনান সমাজে জাদুবিদ্যা, বদনজর এবং ভণ্ড কবিরাজদের প্রভাব নিয়ে বিস্তৃত বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যে তিনি এসব বিষয়কে সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় জীবনাচরণ ও দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, সমাজে কিছু অসাধু ব্যক্তি বিভিন্ন ধরনের তান্ত্রিক বা ভণ্ড কবিরাজি কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে বলে প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তার মতে, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক পরিবার মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছে। একইসাথে তিনি সতর্ক করেন যেন মানুষ এসব প্রতারণার শিকার না হয়।

তিনি বদনজর বা “নজর লাগা” বিষয়টিকেও আলোচনায় আনেন এবং বলেন, ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী মানুষের প্রশংসা বা হিংসার প্রভাব জীবনে নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। এই প্রসঙ্গে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত নিজেকে উপস্থাপন করা বা ব্যক্তিগত বিষয় বেশি প্রকাশ করার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন। তার মতে, অতিরিক্ত প্রদর্শন প্রবণতা অনেক সময় মানসিক চাপ এবং সামাজিক প্রতিক্রিয়ার কারণ হতে পারে।

তরুণদের জীবনযাত্রা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি রাত জাগার অভ্যাসের সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অনেক তরুণ রাতের অধিকাংশ সময় বিনোদন, আড্ডা বা অপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যয় করে এবং ভোরে ঘুমিয়ে পড়ে, যার ফলে তাদের দৈনন্দিন জীবন ও ধর্মীয় অনুশীলনে ব্যাঘাত ঘটে। তিনি শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন এবং আগেভাগে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।

ভিডিওতে তিনি কিছু ধর্মীয় আমলের কথাও উল্লেখ করেন, যা তার মতে রাতের বিভিন্ন নেতিবাচক প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাওয়ার উপায় হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্যে ঘুমানোর আগে নির্দিষ্ট কিছু কোরআনের আয়াত তেলাওয়াতের বিষয় উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি তিনি ধর্মীয় শিক্ষা অনুযায়ী কবরের জীবন ও পরকাল সম্পর্কিত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেন এবং নৈতিক জীবনযাপনের ওপর জোর দেন।

এছাড়া তিনি সমাজে দুর্নীতি, সুদ, ঘুষ এবং আর্থিক অনিয়মের সমালোচনা করে বলেন, পারিবারিক বা সামাজিক স্বার্থের দোহাই দিয়ে অনৈতিক পথে যাওয়া ব্যক্তির জন্য পরকালীন জবাবদিহিতা অনিবার্য। তাই নৈতিক ও দায়িত্বশীল জীবনযাপনের আহ্বান জানান তিনি।

সব মিলিয়ে আলোচনাটি মূলত ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সামাজিক আচরণ, নৈতিকতা এবং দৈনন্দিন জীবনধারা নিয়ে একটি মতামতভিত্তিক বক্তব্য হিসেবে উপস্থাপিত হয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ