ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ ক্রিকেটের করুন দশা

২০২৬ জুলাই ১৬ ১০:০৮:৫৯

বাংলাদেশ ক্রিকেটের করুন দশা

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৩২ রানের হারে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। নাহিদ রানার ৪ উইকেট ও ইয়াসির আলী রাব্বির দুর্দান্ত হাফ সেঞ্চুরিও দলকে জয়ের দেখা দিতে পারেনি।

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের ব্যাটিং সংকট যেন কাটছেই না। একমাত্র টেস্ট এবং তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের পর এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুতেও একই চিত্র দেখা গেল। বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৭১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

১৭১ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান। প্রথম তিন ওভারে আসে ২২ রান। তবে চতুর্থ ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। রিচার্ড এনগারাভার দুর্দান্ত বোলিংয়ে একই ওভারে সাজঘরে ফেরেন দুই ওপেনার। সাইফ হাসান ১৫ বলে ১২ এবং তানজিদ হাসান ৮ বলে ১৬ রান করে আউট হন।

এরপর পরের ওভারেই ব্লেসিং মুজারাবানির শিকার হন পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ৩৪ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে বড় চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় ও ইয়াসির আলী রাব্বি ইনিংস গড়ার চেষ্টা করলেও সেই জুটি বড় হয়নি। হৃদয় ১৩ বলে ১৪ রান করে বিদায় নেন।

এরপর নুরুল হাসান সোহান রানআউট হয়ে ফিরলে বাংলাদেশের বিপদ আরও বাড়ে। তবে একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান ইয়াসির আলী রাব্বি। দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩৩ বলে নিজের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথম হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩৮ বলে ৫৪ রানের কার্যকর ইনিংস খেললেও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিতে পারেননি। শেখ মেহেদী ১৯ রান করলেও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় নির্ধারিত ওভারের আগেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে। প্রথম তিন ওভারেই তারা তুলে ফেলে ৩৮ রান। এরপর নাহিদ রানা প্রথম সাফল্য এনে দিলেও ব্রায়ান বেনেট ও সিকান্দার রাজা দ্রুত রান তুলতে থাকেন। বেনেট ৩০ বলে ৪৪ রান করে আউট হন, আর রাজা করেন ১৩ বলে ২০ রান।

ইনিংসের শেষ দিকে নাহিদ রানা দুর্দান্ত বোলিং করে টানা দুই বলে মিল্টন শুম্বা ও তাশিঙ্গা মুসেকিওয়াকে ফিরিয়ে চার উইকেট পূর্ণ করেন। যদিও শেষ ওভারে রায়ান বার্ল ও ব্র্যাড ইভান্সের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়ে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৭০ রান সংগ্রহ করে। বার্ল ২৫ বলে অপরাজিত ৩০ এবং ইভান্স ১০ বলে অপরাজিত ১৯ রান করেন।

বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ৪ ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন। কিন্তু ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় তার এই দুর্দান্ত বোলিংও কাজে আসেনি। টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজের হতাশার পর টি-টোয়েন্টির শুরুতেও হার দিয়ে সফর শুরু করায় এখন সিরিজে টিকে থাকতে দ্বিতীয় ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

ক্রিকেট এর অন্যান্য সংবাদ