ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সারাদিন ঝিমুনি, বারবার অসুখ, হতে পারে ভিটামিন ডি-এর মারাত্মক অভাব

২০২৬ জানুয়ারি ১১ ১৬:২১:০১

সারাদিন ঝিমুনি, বারবার অসুখ, হতে পারে ভিটামিন ডি-এর মারাত্মক অভাব

ভিটামিন ডি—শুধু হাড়ের স্বাস্থ্য নয়, শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। অথচ আধুনিক জীবনযাপনে রোদে বের হওয়া কমে যাওয়ায় শহর ও গ্রাম—সব জায়গাতেই ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি এখন খুব সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শীতকালে এই ঘাটতির ঝুঁকি আরও বাড়ে।

ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁতের পাশাপাশি পেশি, স্নায়ু, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। শরীরে এই ভিটামিন কমে গেলে কিছু লক্ষণ আগেভাগেই দেখা দেয়, যেগুলো অনেক সময় আমরা সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করি।

হাড় ও জোড়ায় ব্যথাভিটামিন ডি-এর ঘাটতির সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হলো হাড় ও জোড়ার ব্যথা। বিশেষ করে কোমর, হাঁটু ও পিঠে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথা থাকলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভিটামিন ডি কমে গেলে ক্যালসিয়াম শোষণে সমস্যা হয়, ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ঝিমুনিপর্যাপ্ত ঘুমের পরও যদি সারাদিন ক্লান্ত লাগে বা ঝিমুনি ভাব থাকে, তাহলে এর পেছনে ভিটামিন ডি-এর অভাব দায়ী হতে পারে। এই ভিটামিন শরীরের এনার্জি উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বারবার অসুস্থ হওয়াসর্দি-কাশি, জ্বর বা সংক্রমণ ঘন ঘন হলে বুঝতে হবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ছে। ভিটামিন ডি ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে, তাই এর ঘাটতিতে শরীর সহজেই সংক্রমণের শিকার হয়।

পেশির দুর্বলতা ও টান ধরাহঠাৎ পেশিতে টান ধরা, দুর্বলতা বা অল্প কাজেই ব্যথা অনুভূত হওয়াও ভিটামিন ডি কম থাকার লক্ষণ হতে পারে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।

চুল পড়া ও ক্ষত সারতে দেরি হওয়াঅস্বাভাবিকভাবে চুল পড়া বেড়ে যাওয়া এবং ক্ষত শুকোতে দেরি হওয়াও ভিটামিন ডি ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে। এই ভিটামিন কোষের পুনর্গঠন ও ত্বকের সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।

মন খারাপ ও হতাশাভিটামিন ডি-এর অভাবে মানসিক অবসাদ, মন খারাপ থাকা বা আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই ভিটামিন মস্তিষ্কের মুড নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে নিজে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জানা জরুরি। সময়মতো ঘাটতি ধরা পড়লে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত রোদে থাকা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই এই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত