ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাইরে সুস্থ দেখালেও হতে পারে হার্ট অ্যাটাক: চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৬ ১৮:২৫:২৮

বাইরে সুস্থ দেখালেও হতে পারে হার্ট অ্যাটাক: চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা

অনেকে মনে করেন, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান, ধূমপান ও মদ্যপান থেকে দূরে থাকেন, তাদের হার্ট অ্যাটাকের কোনো ঝুঁকি নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বাইরের দিক থেকে সুস্থ দেখালেও ভিতরে হার্টের ধমনিতে ধীরে ধীরে সমস্যা লুকিয়ে থাকতে পারে, যা আচমকাই হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।

অনুভবী চিকিৎসকদের মতে, বেশিরভাগ মানুষ ‘সুস্থ থাকা’ বলতে বোঝেন—ওজন ঠিক আছে, নিয়মিত হাঁটাচলা করেন, বড় কোনো রোগ নেই। কিন্তু হার্টের সুস্থতা শুধু এই বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে না। রক্তনালির ভেতরে ফ্যাট জমা, কোলেস্টেরলের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, জিনগত কারণ—এসব মিলিয়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক সময় ধমনিতে ব্লক ধীরে ধীরে তৈরি হলেও কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। ফলে ব্যক্তি নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ মনে করেন।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, হঠাৎ বুকের ব্যথা, শ্বাসকষ্ট বা অস্বস্তি শুরু হলে সেটাই হার্ট অ্যাটাকের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। তাই শুধু স্বাস্থ্যকর জীবনধারা মানলেই যথেষ্ট নয়। বিশেষ করে যাদের পরিবারে হার্টের রোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস আছে, তাদের ঝুঁকি বেশি। জিনগত কারণে অল্প বয়সেও হার্টের সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা বাইরের দিক থেকে বোঝা যায় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোক বর্তমানে মৃত্যুর প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। উদ্বেগের বিষয় হলো, আগের তুলনায় কম বয়সী মানুষও এখন এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, মানসিক চাপ, অনিয়মিত ঘুম, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই সমস্যার পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

তাই বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, শুধু ব্যায়াম বা সুস্থ খাদ্যাভ্যাস মানলেই যথেষ্ট নয়। বছরে অন্তত একবার পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো প্রয়োজন। কোলেস্টেরল, রক্তচাপ ও হার্ট সংক্রান্ত বিশেষ পরীক্ষা করালে ঝুঁকি আগেভাগেই ধরা পড়ে। যাদের পরিবারে হার্টের রোগের ইতিহাস আছে, তাদের আরও সতর্ক হওয়া জরুরি। পাশাপাশি মানসিক চাপ কমানো ও পর্যাপ্ত ঘুম হার্ট সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

হার্ট অ্যাটাক কোনো বয়স বা স্বাস্থ্যকর জীবনধারার সঙ্গে সীমাবদ্ধ নয়। সুস্থ দেখালেও ভেতরের বিপদ নীরবে বেড়ে উঠতে পারে। তাই সময়মতো পরীক্ষা, সচেতনতা এবং সঠিক জীবনধারাই হার্টকে সুস্থ রাখার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত