ঢাকা, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসি না এমবাপ্পে? সমান গোল হলে কীভাবে নির্ধারণ হবে বিজয়ী

২০২৬ জুলাই ১৫ ১০:২১:৩৫

গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসি না এমবাপ্পে? সমান গোল হলে কীভাবে নির্ধারণ হবে বিজয়ী

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ এখন শেষ অধ্যায়ে। প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। ফলে ফরাসিদের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন শেষ হলেও দলটির অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে এখনো একটি বড় লক্ষ্য বাকি রয়েছে—টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট জেতা।

বর্তমানে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি এবং ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে। দুজনেরই গোলসংখ্যা সমান—৮টি। তবে ফাইনাল কিংবা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচের আগে ফুটবলপ্রেমীদের মনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, শেষ পর্যন্ত যদি দুজনের গোলসংখ্যা সমান থাকে, তাহলে গোল্ডেন বুট কার হাতে উঠবে?

গোল সমান হলে কী বলে ফিফার নিয়ম?

ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, গোল্ডেন বুট যৌথভাবে দেওয়া হয় না। একাধিক খেলোয়াড়ের গোলসংখ্যা সমান হলে কয়েকটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করে একজন বিজয়ী নির্ধারণ করা হয়।

প্রথমেই বিবেচনায় নেওয়া হয় অ্যাসিস্ট। অর্থাৎ যিনি বেশি গোল করাতে সাহায্য করেছেন, তিনিই এগিয়ে থাকবেন। বর্তমানে এই দিক থেকে সামান্য এগিয়ে রয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার অ্যাসিস্ট ৩টি, যেখানে লিওনেল মেসির অ্যাসিস্ট ২টি। ফলে টুর্নামেন্ট শেষে গোলসংখ্যা অপরিবর্তিত থাকলে এই মুহূর্তের হিসাবে গোল্ডেন বুট জয়ের সম্ভাবনা এমবাপ্পেরই বেশি।

অ্যাসিস্টও সমান হলে কী হবে?

যদি গোল ও অ্যাসিস্ট—দুটিই সমান হয়ে যায়, তাহলে ফিফা হিসাব করবে কে কম সময় মাঠে থেকে সেই পরিসংখ্যান গড়েছেন। অর্থাৎ, যিনি কম মিনিট খেলেও সমান সংখ্যক গোল ও অ্যাসিস্ট করেছেন, তিনি এগিয়ে থাকবেন। এটি দক্ষতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়।

শেষ টাইব্রেকারে এগিয়ে মেসি

যদি গোল, অ্যাসিস্ট এবং খেলার সময়—সবকিছুই সমান হয়ে যায়, তখন দেখা হবে ওপেন প্লে থেকে করা গোলের সংখ্যা। অর্থাৎ পেনাল্টি বাদ দিয়ে স্বাভাবিক খেলায় কে বেশি গোল করেছেন।

এই জায়গায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন লিওনেল মেসি। এবারের বিশ্বকাপে তার ৮টি গোলই এসেছে ওপেন প্লে থেকে। যদিও তিনি দুটি পেনাল্টি পেয়েছিলেন, কিন্তু কোনোটিই গোলে রূপ দিতে পারেননি। অন্যদিকে এমবাপ্পের ৮ গোলের মধ্যে একটি এসেছে পেনাল্টি থেকে। তাই শেষ পর্যন্ত হিসাব এই ধাপে গড়ালে গোল্ডেন বুট যেতে পারে মেসির হাতে।

এখনো শেষ হয়নি লড়াই

মেসির সামনে অন্তত আরও দুটি ম্যাচ খেলার সুযোগ রয়েছে। আর্জেন্টিনা যদি ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে, তাহলে তিনি ফাইনাল খেলবেন। আর হেরে গেলে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবেন। ফলে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ তার হাতে রয়েছে।

অন্যদিকে ফ্রান্স ফাইনালে উঠতে না পারায় এমবাপ্পে খেলবেন শুধুমাত্র তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। সেই ম্যাচে একাধিক গোল করলে আবারও তিনি এককভাবে শীর্ষে উঠে যেতে পারেন।

অন্য কারা আছেন দৌড়ে?

গোল্ডেন বুটের লড়াই এখনো পুরোপুরি দুইজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহামের গোলসংখ্যা ৬টি করে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনাল এবং সম্ভাব্য ফাইনাল বা তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করলে তারাও শীর্ষে উঠে আসতে পারেন।

এ ছাড়া স্পেনের মিকেল ওইয়ারজাবাল এবং ফ্রান্সের উসমান দেম্বেলের ঝুলিতে রয়েছে ৫টি করে গোল। যদিও তাদের সম্ভাবনা তুলনামূলক কম, তবুও শেষ ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করলে সমীকরণ বদলে যেতে পারে।

অন্যদিকে নরওয়ের আর্লিং হালান্ড ৭ গোল করেও কার্যত দৌড় থেকে ছিটকে গেছেন। কারণ তার দল ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে এবং সামনে আর কোনো ম্যাচ নেই।

বিশ্বকাপের শেষ দুই ম্যাচে তাই শুধু শিরোপার লড়াই নয়, গোল্ডেন বুটের প্রতিযোগিতাও হতে যাচ্ছে দারুণ রোমাঞ্চকর। শেষ পর্যন্ত মেসি, এমবাপ্পে নাকি অন্য কোনো তারকা—কার হাতে উঠবে সর্বোচ্চ গোলদাতার সম্মান, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় আলোচনার বিষয়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত