ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

দিনে কয়েক কাপ চা পানেই মিলতে পারে হৃদ্‌যন্ত্রের উপকার

২০২৬ জানুয়ারি ৩১ ১০:৫০:৫০

দিনে কয়েক কাপ চা পানেই মিলতে পারে হৃদ্‌যন্ত্রের উপকার

চা অনেকের কাছেই দিনের শুরু ও আড্ডার অবিচ্ছেদ্য অংশ। কেউ বলেন নেশা, কেউ বলেন অভ্যাস। তবে গবেষণা বলছে, পরিমিতভাবে চা পান করলে এটি শুধু ক্লান্তি কাটানোর পানীয় নয়, বরং শরীরের জন্যও বয়ে আনতে পারে নানা উপকারিতা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের পাতায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে কালো ও সবুজ চায়ে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি-র‍্যাডিক্যালের বিরুদ্ধে কাজ করে। এর ফলে কোষের ক্ষয় কমে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি হ্রাস পেতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত চা পানকারীদের মধ্যে খারাপ কোলেস্টেরল বা এলডিএলের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম থাকে।

চা মানসিক সতর্কতা বাড়াতেও সহায়ক। এতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে, আর এল-থিয়ানিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড মনোযোগ বাড়াতে ও মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। কফির মতো হঠাৎ উত্তেজনা না এনে চা ধীরে ধীরে শক্তি জোগায়, যা অনেকের জন্য আরামদায়ক বলে মনে করা হয়।

হজমের ক্ষেত্রেও চায়ের ভূমিকা রয়েছে। খাবারের পর হালকা চা পেটের ভারভাব কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি চায়ের কিছু উপাদান অন্ত্রে ভালো ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ কারণেই বহু সংস্কৃতিতে খাবারের পর চা পান করার চল রয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর দিক থেকেও চায়ের গুরুত্ব কম নয়। চায়ের পলিফেনল ও ক্যাটেচিন জাতীয় যৌগ ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। ঠান্ডা লাগা বা মৌসুমি সংক্রমণের সময় গরম চা অনেকের জন্য স্বস্তিদায়ক বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

তবে অতিরিক্ত চা পান করলে উল্টো ক্ষতি হতে পারে। খুব গরম চা গলা ও খাদ্যনালিতে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আবার বেশি চিনি বা ক্রীম মেশালে চায়ের উপকারিতা কমে গিয়ে ক্যালরি বাড়ে। তাই দিনে ২–৩ কাপ, কম চিনি বা চিনি ছাড়া চা পান করাই স্বাস্থ্যসম্মত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ