ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

যে ৫ কারণে আর্জেন্টিনা নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার স্পেন

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৬ জুলাই ১৯ ১৪:৪৫:২২

যে ৫ কারণে আর্জেন্টিনা নয়, ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে বড় দাবিদার স্পেন

২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি স্পেন। কেন স্পেনকে শিরোপার সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার মনে করা হচ্ছে? অপরাজিত রেকর্ড, দুর্দান্ত দলীয় ফুটবল, নতুন সোনালি প্রজন্মসহ পাঁচটি বড় কারণ জেনে নিন।

বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ম্যাচের অপেক্ষার অবসান ঘটতে যাচ্ছে। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ও ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেন। একদিকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে লিওনেল মেসির দল, অন্যদিকে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে স্পেন। টুর্নামেন্টজুড়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে অনেক বিশ্লেষকই স্পেনকে এগিয়ে রাখছেন। তার পেছনে রয়েছে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী কারণ।

সবচেয়ে বড় শক্তি হলো স্পেনের অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা। দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অপরাজিত রয়েছে তারা। টানা ৩৭ ম্যাচ হার না মানা এই দলটি এখন নতুন ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে। ফাইনালে জয় পেলে শুধু বিশ্বকাপই নয়, দীর্ঘতম অপরাজিত থাকার অন্যতম রেকর্ডও নিজেদের করে নেবে স্প্যানিশরা। এই ধারাবাহিক আত্মবিশ্বাসই তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

এবারের বিশ্বকাপে স্পেনের যাত্রাপথও দারুণ আত্মবিশ্বাস জাগানিয়া। পর্তুগাল, বেলজিয়াম এবং দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী দলকে নির্ধারিত সময়েই হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে তারা। অতিরিক্ত সময় বা টাইব্রেকারের প্রয়োজন না হওয়ায় বোঝা যায়, কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখার সামর্থ্য রয়েছে স্পেনের।

স্পেনের আরেকটি বড় শক্তি তাদের নতুন সোনালি প্রজন্ম। লামিনে ইয়ামাল, পেদ্রি, রদ্রি, পাউ কুবারসি ও পেদ্রো পোরোর মতো তরুণ ও প্রতিভাবান ফুটবলাররা পুরো টুর্নামেন্টে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছেন। অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের সমন্বয়ে গড়া এই দলটি প্রতিটি ম্যাচেই নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।

২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সঙ্গে এবারের স্পেনের বেশ কিছু কাকতালীয় মিলও আলোচনায় রয়েছে। সেবারের মতো এবারও ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া, উদ্বোধনী ম্যাচের মিল, শাকিরার অফিসিয়াল থিম সং এবং আরও কিছু ঐতিহাসিক সাদৃশ্য স্পেনের সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। যদিও এসব পরিসংখ্যান সরাসরি ফল নির্ধারণ করে না, তবুও ফুটবলে এমন কাকতালীয় ঘটনা প্রায়ই আলোচনার জন্ম দেয়।

সবশেষে, স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের দলীয় ফুটবল। এই দলে কোনো একজন তারকার ওপর নির্ভরতা নেই। প্রতিটি ম্যাচে ভিন্ন ভিন্ন খেলোয়াড় জয়ের নায়ক হয়ে উঠেছেন। দারুণ পজেশন, দ্রুত প্রেসিং, নিখুঁত পাসিং এবং সংগঠিত আক্রমণ স্পেনকে প্রতিপক্ষের জন্য ভয়ংকর করে তুলেছে। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলগত সমন্বয়ই তাদের সবচেয়ে বড় পরিচয়।

তবে সব হিসাব-নিকাশের শেষ উত্তর মিলবে মাঠেই। একদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ইতিহাস গড়ার স্বপ্নে বিভোর আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে আত্মবিশ্বাসী স্পেন। ফুটবলপ্রেমীদের অপেক্ষা এখন শুধুই ৯০ মিনিটের মহারণে কে শেষ পর্যন্ত সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, তা দেখার।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত