ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

নিয়মিত খেলে শরীরে যা ঘটে, জানুন থানকুনির অজানা বিস্ময়কর গুণ

২০২৬ জানুয়ারি ২৮ ১১:৪২:৪০

নিয়মিত খেলে শরীরে যা ঘটে, জানুন থানকুনির অজানা বিস্ময়কর গুণ

একসময় গ্রামবাংলার উঠোন, ধানখেতের পাশ কিংবা জলাশয়ের ধারে স্বাভাবিকভাবেই জন্মাত থানকুনি পাতা। আলাদা চাষের প্রয়োজন না হলেও এই ছোট্ট শাকটি জায়গা করে নিয়েছিল প্রতিদিনের খাবারের পাতে। শুধু খাদ্য হিসেবেই নয়, লোকজ চিকিৎসা, আয়ুর্বেদ ও চীনা ভেষজ চিকিৎসায়ও দীর্ঘদিন ধরে থানকুনি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘গোটু কোলা’ নামে পরিচিত এই ভেষজকে অনেক গবেষকই বলছেন সম্ভাবনাময় এক উদ্ভিদ। কেউ কেউ একে ‘দীর্ঘজীবনের ভেষজ’ হিসেবেও উল্লেখ করছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিচ্ছেন—থানকুনি কোনো অলৌকিক ওষুধ নয়, বরং সচেতন ব্যবহারে উপকারী একটি প্রাকৃতিক ভেষজ।

মস্তিষ্কের যত্নে থানকুনিবর্তমান ব্যস্ত জীবনে স্মৃতিভ্রংশ, মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক ক্লান্তি বাড়ছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, থানকুনি মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া কিংবা মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যায় এর ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। প্রাণীর ওপর করা গবেষণায় স্ট্রোক-পরবর্তী মানসিক পুনর্বাসনেও আশাব্যঞ্জক ফল মিলেছে।

আলঝেইমার্স নিয়ে গবেষকদের আগ্রহআলঝেইমার্স রোগে মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষ ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরীক্ষাগার ও প্রাণীর ওপর চালানো কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, থানকুনি মস্তিষ্ককোষকে ক্ষতির হাত থেকে আংশিকভাবে রক্ষা করতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসা হিসেবে কার্যকর—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন।

মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা কমাতেথানকুনির অন্যতম গুণ হলো স্নায়ুকে শান্ত করা। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা ঘুমের অভাবে তৈরি অস্থিরতা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে। এ কারণেই লোকজ চিকিৎসায় দীর্ঘদিন ধরে হালকা দুশ্চিন্তা বা মানসিক অস্থিরতায় থানকুনি ব্যবহার হয়ে আসছে।

বিষণ্নতায় সহায়ক ভূমিকাসীমিত গবেষণায় দেখা গেছে, থানকুনি বিষণ্নতার কিছু উপসর্গ—যেমন মন খারাপ, নেতিবাচক ভাব বা অস্থিরতা—হালকা করতে সাহায্য করতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কখনোই এটিকে ওষুধের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

রক্তসঞ্চালন ও ফোলা কমাতেদীর্ঘ সময় বসে কাজ করা বা ভ্রমণের ফলে অনেকের পা ও গোড়ালি ফুলে যায়। গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, থানকুনি শরীরে জমে থাকা অতিরিক্ত তরল কমাতে এবং রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হতে পারে। ভ্যারিকোজ ভেইনের ক্ষেত্রেও এর কিছু ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে।

ঘুমের সমস্যায় স্বস্তিযদি অনিদ্রার পেছনে মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা কাজ করে, তাহলে থানকুনি কিছুটা আরাম দিতে পারে। যদিও এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা সীমিত, লোকজ চিকিৎসায় ঘুমের সমস্যা কমাতে থানকুনির ব্যবহার বহুদিনের।

ত্বকের যত্নে থানকুনিগর্ভাবস্থা বা হঠাৎ ওজন বাড়া-কমার ফলে হওয়া স্ট্রেচ মার্ক কমাতে থানকুনি উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এতে থাকা উপাদান ত্বকে কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ছোটখাটো ক্ষত, কাটাছেঁড়া দ্রুত সারানো ও দাগ কমাতেও এর ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে।

ব্যথা ও প্রদাহ কমাতেথানকুনির প্রদাহনাশক গুণ রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, বাত বা জয়েন্টের প্রদাহে এটি ব্যথা ও ক্ষয় কিছুটা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

লিভার ও কিডনি সুরক্ষায় সম্ভাবনাসাম্প্রতিক গবেষণায় ইঙ্গিত মিলেছে, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় লিভার ও কিডনিতে যে বিষক্রিয়া তৈরি হয়, থানকুনি তা আংশিকভাবে কমাতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এই ফল নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে থানকুনি পাতা আমাদের পরিচিত হলেও এর উপকারিতা নিয়ে আধুনিক বিজ্ঞান নতুন করে ভাবছে। তবে এটি কোনো রোগের সরাসরি চিকিৎসা নয়। নিয়মিত বা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ