ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

শরীরের এই ৬টি অঙ্গে বারবার হাত দিচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনতে পারেন নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি

২০২৬ জুলাই ২২ ১৭:৩৪:২১

শরীরের এই ৬টি অঙ্গে বারবার হাত দিচ্ছেন? অজান্তেই ডেকে আনতে পারেন নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি

দিনের বিভিন্ন সময়ে আমরা অজান্তেই বহুবার নিজের শরীরের বিভিন্ন অংশে হাত দিই। তবে চিকিৎসকদের মতে, শরীরের কিছু সংবেদনশীল অঙ্গ অপ্রয়োজনে স্পর্শ করার অভ্যাস স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে হাতে থাকা জীবাণু সহজেই এসব অংশ দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে সংক্রমণের কারণ হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি কোন কোন অঙ্গে অযথা হাত না দেওয়াই ভালো, সে বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি।

কানের ভেতর:কানের ভেতরে আঙুল, কটন বাড, কলম বা অন্য কোনো বস্তু প্রবেশ করানো উচিত নয়। কানের ভেতরের ত্বক খুবই কোমল এবং সহজেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে সংক্রমণ, ব্যথা এমনকি কানের পর্দারও ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। কান পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

মুখ:সারাদিন বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করার কারণে হাতে নানা ধরনের জীবাণু জমে। সেই হাত বারবার মুখে দিলে জীবাণু সহজেই মুখে প্রবেশ করতে পারে। পাশাপাশি হাতের তেল ও ময়লা ত্বকে জমে ব্রণ, ফুসকুড়ি বা অন্যান্য ত্বকের সমস্যাও বাড়াতে পারে।

চোখ:চোখ চুলকানো বা অপরিষ্কার হাতে চোখ স্পর্শ করলে ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সহজেই চোখে পৌঁছে যেতে পারে। এতে কনজাংকটিভাইটিসসহ বিভিন্ন ধরনের চোখের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। চোখে অস্বস্তি হলে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া বা প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঠোঁট ও মুখের ভেতর:মানবদেহে প্রবেশ করা অনেক জীবাণুর অন্যতম পথ হলো মুখ। তাই বারবার ঠোঁট বা মুখের ভেতরে হাত দেওয়া সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে খাওয়ার আগে ভালোভাবে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নাকের ভেতর:নাকে আঙুল দেওয়ার অভ্যাস শুধু সামাজিকভাবে অস্বস্তিকরই নয়, এটি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এতে নাকের ভেতরের কোমল টিস্যুতে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়তে পারে।

নখের নিচের অংশ:নখের নিচে সহজেই ময়লা, জীবাণু ও মৃত কোষ জমে থাকে। নখ পরিষ্কার করার সময় আঙুলের পরিবর্তে নরম ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো। এতে জীবাণু শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কমে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়া এবং অপ্রয়োজনে চোখ, নাক, মুখ বা কানের মতো সংবেদনশীল অঙ্গে হাত না দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে অনেক সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব। তবে কোনো অস্বাভাবিক উপসর্গ, ব্যথা বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত