ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সকালের নাশতায় এই ৬ খাবার বেশি খেলেই বাড়তে পারে কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি

২০২৬ জুলাই ১৯ ০৯:৪৭:৪৬

সকালের নাশতায় এই ৬ খাবার বেশি খেলেই বাড়তে পারে কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি

দিনের শুরুটা একটি স্বাস্থ্যকর নাশতা দিয়ে করা সুস্বাস্থ্যের অন্যতম চাবিকাঠি। তবে অজান্তেই অনেকেই এমন কিছু খাবার নিয়মিত খেয়ে থাকেন, যা দীর্ঘমেয়াদে কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এসব খাবার আরও বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণ, চিনি, ট্রান্স ফ্যাট এবং সংরক্ষণকারী রাসায়নিকসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়ার ফলে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে। তাই সকালের নাশতা নির্বাচন করার সময় সচেতন হওয়া জরুরি।

নাশতায় অনেকেই পাউরুটির সঙ্গে চিজ বা ক্রিম স্প্রেড খেতে পছন্দ করেন। কিন্তু এসব খাবারে সাধারণত সোডিয়াম ও সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। অতিরিক্ত সোডিয়াম কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে।

সসেজ, বেকন, সালামি এবং অন্যান্য প্রক্রিয়াজাত মাংসও কিডনির জন্য ভালো নয়। এসব খাবারে অতিরিক্ত লবণ, নাইট্রেট ও বিভিন্ন সংরক্ষণকারী রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘদিন নিয়মিত এগুলো খেলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, যা কিডনির ক্ষতির অন্যতম কারণ।

বাজারে পাওয়া অনেক প্যাকেটজাত ব্রেকফাস্ট সিরিয়াল দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও অনেক ক্ষেত্রে এতে অতিরিক্ত চিনি, সোডিয়াম এবং ফসফরাসযুক্ত সংযোজক উপাদান থাকে। এসব উপাদান নিয়মিত গ্রহণ করলে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সকালের নাশতায় ইনস্ট্যান্ট নুডলস বেছে নেন। কিন্তু এতে থাকা অতিরিক্ত লবণ, কৃত্রিম স্বাদবর্ধক এবং সংরক্ষণকারী উপাদান কিডনির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। তাই এটি নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা উচিত নয়।

ডোনাট, পেস্ট্রি এবং অন্যান্য মিষ্টিজাত বেকারি খাবারে প্রচুর পরিমাণে চিনি, ট্রান্স ফ্যাট ও পরিশোধিত ময়দা থাকে। এসব খাবার স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং শরীরে প্রদাহের ঝুঁকি বাড়ায়। দীর্ঘমেয়াদে এগুলোর প্রভাব কিডনির স্বাস্থ্যের ওপরও পড়তে পারে।

এছাড়া সাদা পাউরুটি, পরোটা, নান কিংবা পরিশোধিত ময়দা দিয়ে তৈরি অন্যান্য খাবার দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এসব খাবার অতিরিক্ত খাওয়া কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

কিডনি সুস্থ রাখতে বিশেষজ্ঞরা সকালের নাশতায় তাজা মৌসুমি ফল, ওটস, ডিম, টক দই, বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি এবং সম্পূর্ণ শস্যজাত খাবার রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখাও কিডনি ভালো রাখার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

তবে মনে রাখতে হবে, কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাদ্যতালিকা সবার জন্য এক রকম নয়। কারও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে পটাশিয়াম, ফসফরাস বা প্রোটিনের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন হতে পারে। তাই আগে থেকে কিডনির সমস্যা থাকলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত