ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া, মারা গেলেন দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার

২০২৬ জুলাই ২১ ১৭:০৩:৩৬

ফুটবল বিশ্বে শোকের ছায়া, মারা গেলেন দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী ফুটবলার

ফুটবল বিশ্ব হারালো আরেক কিংবদন্তিকে। ইংল্যান্ড জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক, সফল কোচ এবং টানা দুইবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী কেভিন কিগান আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করার পর সোমবার (২০ জুলাই) ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তার পরিবারের সদস্য এবং সাবেক ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেড পৃথক বিবৃতিতে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রথমবারের মতো কিগানের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসে। পরে জুন মাসে চিকিৎসকেরা জানান, তিনি চতুর্থ স্তরের ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘ চিকিৎসা ও লড়াইয়ের পর শেষ পর্যন্ত জীবনযুদ্ধে হার মানেন ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তি।

খেলোয়াড়ি জীবনে কেভিন কিগান ছিলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড। ছোটখাটো গড়ন, অসাধারণ গতি এবং অদম্য লড়াকু মানসিকতার কারণে সমর্থকদের কাছে তিনি ‘মাইটি মাউস’ নামে পরিচিত ছিলেন। তার আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং নেতৃত্বগুণ তাকে ইউরোপীয় ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেছিল।

লিভারপুলের হয়ে কিগান দারুণ সাফল্য অর্জন করেন। ক্লাবটির জার্সিতে তিনি তিনটি ইংলিশ ফার্স্ট ডিভিশন শিরোপা, একটি এফএ কাপ, দুটি ইউয়েফা কাপ এবং ১৯৭৭ সালে লিভারপুলের ইতিহাসের প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পরে জার্মান ক্লাব হামবুর্গে যোগ দিয়ে ১৯৭৯ সালে বুন্দেসলিগা শিরোপা জেতেন। সেই সময়ই তিনি টানা দুই বছর, ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে, ইউরোপের সেরা ফুটবলারের মর্যাদাপূর্ণ ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েন। ইংল্যান্ড জাতীয় দলের জার্সিতে তিনি ৬৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, করেছেন ২১টি গোল এবং ৩১টি ম্যাচে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচ হিসেবেও সফলতা পান কিগান। ১৯৯২ সালে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের দায়িত্ব নিয়ে ক্লাবটিকে আবারও ইংলিশ শীর্ষ লিগে ফিরিয়ে আনেন এবং আকর্ষণীয় আক্রমণাত্মক ফুটবলের জন্য ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান। পরবর্তীতে তিনি ইংল্যান্ড জাতীয় দল, ফুলহাম এবং ম্যানচেস্টার সিটির কোচ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

কেভিন কিগানের মৃত্যুতে বিশ্ব ফুটবল এক উজ্জ্বল নক্ষত্রকে হারালো। খেলোয়াড় ও কোচ—দুই ভূমিকাতেই তার অবদান ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত