ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোজায় সুস্থ থাকতে যেমন হওয়া উচিত ইফতার, সেহরি ও রাতের খাবার

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৮ ২০:০৩:১৩

রোজায় সুস্থ থাকতে যেমন হওয়া উচিত ইফতার, সেহরি ও রাতের খাবার

রমজান মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ইবাদতের মাস। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে শরীরে শক্তির ঘাটতি, পানিশূন্যতা, রক্তে শর্করার ওঠানামা ও গ্যাস্ট্রিকের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। সঠিক পরিকল্পনায় ইফতার, রাতের খাবার ও সেহরি সাজাতে পারলে রোজা রাখা যেমন সহজ হয়, তেমনি শরীরও থাকে সুস্থ ও কর্মক্ষম।

ইফতার: ধীরে শুরু, ভারসাম্যে শেষ

দীর্ঘ সময় উপবাসের পর ইফতারই শরীরকে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনে। তাই শুরুটা হওয়া উচিত হালকা খাবার দিয়ে।

প্রথমে পানি পান করুন—এতে পানিশূন্যতা কাটে।

খেজুর বা মৌসুমি ফল (তরমুজ, পেঁপে, কলা, কমলা) রক্তে শর্করার ঘাটতি দ্রুত পূরণ করে।

সবজি বা ডাল দিয়ে তৈরি হালকা স্যুপ শরীরকে পুষ্টি ও তরল দুটোই দেয়।

ইফতারকে দুই ধাপে ভাগ করা ভালো। প্রথম ধাপে পানি ও ফল, নামাজের পর দ্বিতীয় ধাপে মূল খাবার। এতে হজমে সুবিধা হয়।

পেঁয়াজু, বেগুনি, আলুর চপ বা সমুচা সংস্কৃতির অংশ হলেও প্রতিদিন অতিরিক্ত ভাজাপোড়া গ্যাস্ট্রিক ও ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। তাই সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার যেমন সেদ্ধ ডিম, ছোলা, চানা বা অল্প তেলে গ্রিল করা মাছ-মুরগি ইফতারকে স্বাস্থ্যসম্মত করে।

রাতের খাবার: মাঝারি পরিমাণ, কম তেল-ঝাল

ইফতারের অন্তত দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর রাতের খাবার খাওয়া ভালো।

লাল চালের ভাত বা আটার রুটি পরিমিত পরিমাণে।

ডাল, মাছ বা মুরগি প্রোটিনের ভালো উৎস।

লাউ, ঝিঙে, পটোল, শিম, কুমড়া বা পেঁপের মতো সবজি হজমে সহায়ক।

অতিরিক্ত ঝাল, তেল, লবণ ও কোমল পানীয় এড়িয়ে চলা উচিত। ইফতার থেকে ঘুমানোর আগ পর্যন্ত অল্প অল্প করে পানি পান করা জরুরি।

সেহরি: সারাদিনের শক্তির ভিত্তি

সেহরি রোজার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার। এটি বাদ দিলে দুর্বলতা ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বাড়ে।

সেহরিতে থাকা উচিত কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফাইবারের সমন্বয়।

লাল চালের ভাত বা আটার রুটি

ডাল ও সবজি

সেদ্ধ ডিম

দুধ, দই, ওটস বা চিড়া

শসা, টমেটো, গাজর

বেশি লবণ, ঝাল ও ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় (চা-কফি) এড়িয়ে চলা ভালো। সেহরির সময় পর্যাপ্ত পানি ধীরে ধীরে পান করতে হবে।

গরমে বাড়তি সতর্কতা

বাংলাদেশের গরম আবহাওয়ায় ঘামের মাধ্যমে শরীর দ্রুত পানি হারায়। তাই—

লেবু-পানি, ডাবের পানি বা ঘরে তৈরি হালকা শরবত উপকারী।

বাইরে গেলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার করা ভালো।

বিশেষ রোগীদের জন্য সতর্কতা

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের কার্বোহাইড্রেট ও চিনি নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। নিয়মিত ও সময়মতো খাবার গ্রহণ করা উচিত। শিশু ও বয়স্কদের সহজপাচ্য খাবার দেওয়া ভালো।

রমজান সংযমের শিক্ষা দেয়। এই সংযম যদি খাদ্যাভ্যাসেও বজায় থাকে, তবে রোজা হবে স্বস্তিদায়ক ও স্বাস্থ্যকর। পরিমিত ইফতার, ভারসাম্যপূর্ণ রাতের খাবার এবং পরিকল্পিত সেহরি—এই তিন অভ্যাসই পারে পুরো মাসটিকে সুস্থতার সঙ্গে কাটাতে সাহায্য করতে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ