ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

লো-ফ্যাট খাবার খেয়েও ব্লাড সুগার বাড়ছে জেনে নিন আসল কারন

২০২৫ ডিসেম্বর ১০ ১৯:২৭:০২

লো-ফ্যাট খাবার খেয়েও ব্লাড সুগার বাড়ছে জেনে নিন আসল কারন

স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পরও রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়ার ঘটনা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তাই শুধু খাবার বেছে নেওয়ার পরও যখন গ্লুকোজ দ্রুত বাড়তে থাকে, তখন বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্তিকর লাগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে শরীরের জৈবিক পরিবর্তন, কিছু জীবনযাপন-সংক্রান্ত অভ্যাস এবং হরমোনগত ভারসাম্যহীনতা।

লুকানো কার্বোহাইড্রেটের ফাঁদঅনেক স্বাস্থ্যকর খাবারের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে উচ্চমাত্রার কার্বোহাইড্রেট—যেমন ফলের রস, স্মুদি, গ্র্যানোলা, লো-ফ্যাট খাবার বা অতিরিক্ত হোলগ্রেইন। এগুলো স্বাস্থ্যকর হলেও একবারে বেশি খেলে ইনসুলিন তা সামলাতে পারে না, ফলে দ্রুত ব্লাড সুগার বেড়ে যায়।

ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স—অজানা বড় কারণইনসুলিন সঠিকভাবে কাজ না করলে খাবার থেকে পাওয়া গ্লুকোজ রক্তে থেকেই যায়। দীর্ঘসময় বসে থাকা, স্ট্রেস, ওজন বৃদ্ধি, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা—এসব কারণে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিছু ওষুধ ও শারীরিক সমস্যাস্টেরয়েড, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল, থাইরয়েড হরমোনের ওষুধ সহ কিছু ওষুধ রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে। পানিশূন্যতা, ইনফেকশন বা প্রদাহ হলেও রক্তে চিনি বেড়ে যায়।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাপেশি যথেষ্ট নড়াচড়া না করলে গ্লুকোজ ব্যবহৃত হয় না। ফলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও শরীরে চিনি জমে থাকে।

ঘুমের অনিয়মে কর্টিসলের বেড়ে যাওয়াঅল্প ঘুম বা অনিয়মিত ঘুম শরীরে কর্টিসল বাড়িয়ে দেয় এবং লিভার থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ছাড়ায়। ফলে অনেকে সকালে রক্তে শর্করা বেশি পান—যা ‘ডন ফেনোমেনন’ নামে পরিচিত।

স্ট্রেস—সবচেয়ে অবহেলিত কারণমানসিক চাপের সময় শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন হরমোন বাড়ে, যা লিভারকে গ্লুকোজ ছাড়তে উদ্দীপিত করে। তাই অনেক সময় না খেলেও ব্লাড সুগার বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণ শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে না; বরং ঘুম, ব্যায়াম, পানি পান, মানসিক স্বাস্থ্য এবং হরমোন—সব মিলিয়েই গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাই সার্বিক জীবনযাপন পরিবর্তনই রক্তে শর্করা স্বাভাবিক রাখতে সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ