ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ব্যথা: কারণ ও সমাধান

মো : মারুফ হোসেন
মো : মারুফ হোসেন

সিনিয়র রিপোর্টার

২০২৫ সেপ্টেম্বর ০৩ ১১:০৩:৩০

ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর ব্যথা: কারণ ও সমাধান

নিজস্ব প্রতিবেদক : অনেকেই সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর পুরো শরীরে এক ধরনের ব্যথা ও আড়ষ্টতা অনুভব করেন। পা মেঝেতে নামালে তালুতে ব্যথা লাগে, হাত-পাসহ পুরো দেহ যেন ব্যথায় ভরে যায়। এই ব্যথা শুধু শারীরিক অস্বস্তিই দেয় না, বরং সারাদিন মনোযোগ ও কর্মক্ষমতাকেও প্রভাবিত করে।

নিচে ব্যথার সম্ভাব্য কারণ ও প্রতিকার বিশদভাবে তুলে ধরা হলো:

১. ভালো ঘুমের অভাব

রাতে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমালেও যদি ঘুমের মান ভালো না হয়, তবে শরীরের কোষ ও টিস্যু ঠিকভাবে রিপেয়ার হতে পারে না। ফলে সকালে পেশিতে ব্যথা ও ক্লান্তি দেখা দেয়।

সমাধান:

প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান, এমনকি ছুটির দিনেও।

বেডরুমে আরামদায়ক তাপমাত্রা রাখুন।

জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করে আলো কমান।

ভালো মানের ম্যাট্রেস ও বালিশ ব্যবহার করুন।

ঘুমানোর ৬ ঘণ্টা আগে ক্যাফেইন এড়ান।

ভারী খাবার খাওয়ার ২-৩ ঘণ্টা আগে ঘুমাতে যান।

ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি ও ল্যাপটপ স্ক্রিন এড়ান।

ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যাবেন না।

২. দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ

অতিরিক্ত কাজ, মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থাকলে পেশিতে ব্যথা দেখা দিতে পারে। স্ট্রেসে থাকা মানে পেশিতে ক্রমাগত টান অনুভব করা।

সমাধান:

নিয়মিত ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম করুন।

মানসিক চাপের বিষয় কারো সঙ্গে আলোচনা করুন।

ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়ান।

বাইরে গিয়ে পর্যাপ্ত বাতাস-বাতি গ্রহণ করুন।

৩. ব্যায়ামের অভাব বা অতিরিক্ত ব্যায়াম

ব্যায়ামের অভাব পেশিকে দুর্বল করে, ফলে সকালে ব্যথা দেখা দেয়। অপরদিকে অতিরিক্ত ব্যায়ামও পেশি ক্লান্তি এবং ব্যথার কারণ হতে পারে।

সমাধান:

সপ্তাহে অন্তত ৫ দিন ৩০ মিনিট ব্যায়াম বা ইয়োগা করুন।

বাইরে হাঁটাচলা করুন বা সিঁড়ি ব্যবহার করুন।

অতিরিক্ত ব্যায়াম করলে সপ্তাহে দুই দিন বিশ্রাম নিন।

৪. ভুল বা অপ্রয়োজনীয় খাবার

আপনার ডায়েটে যথেষ্ট পুষ্টি না থাকলে, বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাট, চিনি, পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও অ্যালকোহল, পেশি ব্যথার কারণ হতে পারে।

সমাধান:

তৈলাক্ত মাছ, ফল ও শাকসবজি, বাদাম ও বীজ অন্তর্ভুক্ত করুন।

আদা, হলুদসহ হালকা মসলা ব্যবহার করুন।

সুষম ডায়েট এবং পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করুন।

৫. অন্যান্য টিপস

ঘুমের আগে হালকা স্ট্রেচিং বা ধ্যান করুন।

দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে মাঝে মাঝে হাঁটুন।

ঘুমের পরিবেশ শান্ত, অন্ধকার এবং আরামদায়ক রাখুন।

উপসংহার:সকালের ব্যথা অনেক সময় ঘুমের মান, মানসিক চাপ, ব্যায়াম অভ্যাস ও পুষ্টির অভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিয়মিত ঘুম, পরিমিত ব্যায়াম, সুষম ডায়েট ও মানসিক চাপ কমানোর উপায় অনুসরণ করলে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নিজের শরীরের পার্থক্য লক্ষ্য করা সম্ভব।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ