ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার নাকানিচুবানি খাওয়ার ৫ কারণ

২০২৬ জুলাই ২০ ১১:৪০:৩৯

স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার নাকানিচুবানি খাওয়ার ৫ কারণ

স্কোরলাইন বলছে মাত্র ১-০। কিন্তু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের পুরো ১২০ মিনিটের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। বল দখল, আক্রমণ, পাসিং, সুযোগ তৈরি—প্রায় সব বিভাগেই আর্জেন্টিনাকে ছাপিয়ে যায় স্পেন। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে জয় নিশ্চিত করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জেতে লা রোহা।

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামলেও শেষ পর্যন্ত স্পেনের সুসংগঠিত ফুটবলের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে। পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট নিতে পারে লিওনেল স্কালোনির দল, যার একটিও লক্ষ্যভেদ করতে পারেনি। প্রশ্ন উঠেছে, কোথায় হারিয়ে গেল বিশ্বকাপজয়ী সেই আর্জেন্টিনা?

১. মেসিকে নিস্ক্রিয় করে দেয় স্পেনের রক্ষণ

পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরসা ছিলেন লিওনেল মেসি। কিন্তু ফাইনালে তাকে কার্যত ম্যাচ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখে স্পেনের ডিফেন্স। মেসি বল পেলেও তাকে ঘিরে ফেলেন একাধিক ডিফেন্ডার। ফলে তিনি কোনো উল্লেখযোগ্য আক্রমণ গড়ে তুলতে পারেননি, এমনকি সতীর্থদের জন্যও কার্যকর সুযোগ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হন। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগের ধার অনেকটাই ভোঁতা হয়ে যায়।

২. মাঝমাঠে স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্য

ফাইনালের সবচেয়ে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে মাঝমাঠে। স্পেন শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে রেখে ছোট ছোট পাসে ম্যাচ পরিচালনা করেছে। দ্রুত পাসিং, প্রেসিং এবং বল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে তারা আর্জেন্টিনাকে নিজেদের ছন্দে খেলতেই দেয়নি। দীর্ঘ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ স্পেনের দখলে থাকায় মেসিদের আক্রমণ গড়ে ওঠেনি।

৩. লিসান্দ্রো মার্তিনেজের চোটে ভেঙে যায় রক্ষণ

প্রথমার্ধের শেষ দিকে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন সেন্টারব্যাক লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তার পরিবর্তে নামেন অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দি। তবে লিসান্দ্রোর অনুপস্থিতিতে আর্জেন্টিনার রক্ষণ থেকে আক্রমণে বল তোলার গতি কমে যায়। একই সঙ্গে রক্ষণভাগের সমন্বয়েও প্রভাব পড়ে, যার সুযোগ নিতে থাকে স্পেন।

৪. এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়

নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা। অতিরিক্ত সময়ে সংখ্যাগত সুবিধা পুরোপুরি কাজে লাগায় স্পেন। একজন কম নিয়ে রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত আর্জেন্টিনা শেষ পর্যন্ত ফেরান তোরেসের গোলে ভেঙে পড়ে। এই লাল কার্ড ম্যাচের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৫. আক্রমণভাগের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা

পুরো বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল করা দলগুলোর একটি ছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু ফাইনালে সেই আক্রমণভাগের কোনো ছাপই দেখা যায়নি। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একবারও লক্ষ্যভেদী শট নিতে পারেনি তারা। অতিরিক্ত সময় মিলিয়ে পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি শট নেওয়া আর্জেন্টিনার জন্য বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে ছিল হতাশাজনক পরিসংখ্যান। অন্যদিকে স্পেন ২০টি শট নিয়ে বারবার গোলের সুযোগ তৈরি করে শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পায়।

ফাইনালের পারফরম্যান্স প্রমাণ করেছে, শুধু তারকানির্ভর ফুটবল নয়, বরং সংগঠিত দলীয় পারফরম্যান্সই বড় ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে। স্পেন পুরো ম্যাচে কৌশলগত শৃঙ্খলা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং ধৈর্য ধরে খেলে আর্জেন্টিনাকে ছাপিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের এক গোলেই নির্ধারিত হয় বিশ্বকাপের ভাগ্য, আর দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরে স্পেন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত