ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

জ্বর হলেই এই ঔষধ খাচ্ছেন, সাবধান :লিভার-কিডনির ক্ষতি নিশ্চিত

২০২৫ ডিসেম্বর ১৭ ১৬:২৪:৩৮

জ্বর হলেই এই ঔষধ খাচ্ছেন, সাবধান :লিভার-কিডনির ক্ষতি নিশ্চিত

বর্ষাকাল এলেই আবহাওয়ার অস্থিরতার কারণে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি ও শরীর ব্যথার সমস্যা বাড়ে। দিনের পর দিন রোদ-বৃষ্টি আর আর্দ্র আবহাওয়ার প্রভাবে বিভিন্ন ভাইরাস সক্রিয় হয়ে ওঠে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে মানুষের শরীরে। এই সময় সামান্য শরীর গরম হলেই অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই হাত বাড়ান পরিচিত ও সহজলভ্য ওষুধ প্যারাসিটামলের দিকে।

কিন্তু চিকিৎসকেরা বলছেন, এই অভ্যাস মোটেই নিরাপদ নয়। বহুল ব্যবহৃত এই ওষুধটি নির্দিষ্ট মাত্রার মধ্যে থাকলে উপকারী হলেও, মাত্রা ছাড়ালেই তা শরীরের জন্য ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে।

মাত্রা ছাড়ালেই বিপদ: লিভার ও কিডনির ওপর ভয়াবহ চাপ

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যারাসিটামল অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ে লিভার (যকৃত) ও কিডনি (বৃক্ক)। নিয়মের বাইরে গিয়ে ঘন ঘন এই ওষুধ খেলে লিভারের কোষ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে লিভার ফেলিওরের ঝুঁকিও দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত প্যারাসিটামল পেটে গ্যাস, অম্বল, বমি ভাব এবং হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ঘন ঘন প্যারাসিটামল সেবনের ফলে গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা, হৃদ্‌রোগ এবং কিডনি রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

জ্বর হলে কতটা প্যারাসিটামল নিরাপদ? জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা

চিকিৎসকেরা পরিষ্কারভাবে জানাচ্ছেন, সব জ্বরেই প্যারাসিটামল খাওয়া জরুরি নয়।

যদি শরীরের তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের নিচে থাকে, তাহলে প্রথমেই ওষুধ না খেয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং বেশি করে পানি বা তরল পান করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।

নিতান্ত প্রয়োজন হলে—

দিনে সাধারণত ৪টি প্যারাসিটামল যথেষ্ট

সর্বোচ্চ সীমা ৬টির বেশি নয়

প্রতিটি ডোজের মাঝে অন্তত ৪–৫ ঘণ্টার বিরতি রাখতে হবে

চিকিৎসকেরা সতর্ক করে দিচ্ছেন, ৬টি প্যারাসিটামল খাওয়ার পরেও যদি জ্বর না কমে, তাহলে নিজে নিজে ওষুধ বাড়ানো নয়—অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

সতর্কতাই সুরক্ষা

প্যারাসিটামল সহজলভ্য ও তুলনামূলক নিরাপদ ওষুধ হলেও, সেটি কোনোভাবেই নির্বিচারে খাওয়ার মতো নয়। সামান্য অসচেতনতাই ভবিষ্যতে বড় শারীরিক জটিলতার কারণ হতে পারে। তাই জ্বর হলে আগে কারণ বোঝার চেষ্টা করুন, বিশ্রাম নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই ওষুধ সেবন করুন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত