ঢাকা, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঠান্ডা ঘরে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকি: কেন বাড়তে পারে কিডনি পাথর

২০২৬ এপ্রিল ৩০ ১৪:০৯:১৯

ঠান্ডা ঘরে লুকিয়ে থাকা ঝুঁকি: কেন বাড়তে পারে কিডনি পাথর

প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পেতে এখন অনেকেই দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছেন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে। বাসা কিংবা অফিস—সবখানেই এসির ব্যবহার বেড়েছে কয়েকগুণ। তবে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে, সারাদিন এসির ঠান্ডায় থাকা কি Kidney stone হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির ঠান্ডা বাতাস সরাসরি কিডনিতে পাথর তৈরি করে না। তবে এসির পরিবেশ আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসে এমন পরিবর্তন আনে, যা পরোক্ষভাবে কিডনির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণা বলছে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে দীর্ঘ সময় থাকলে শরীর কম ঘামে এবং তৃষ্ণাও তুলনামূলক কম লাগে। ফলে অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি পান করেন না। এই অবস্থাকে বলা হয় Dehydration, যা কিডনিতে পাথর হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার ফলে প্রস্রাব ঘন হয়ে যায়। এতে ক্যালসিয়াম, অক্সালেট ও ইউরিক অ্যাসিডের মতো খনিজ পদার্থ জমে গিয়ে ধীরে ধীরে পাথর তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক বিপাক প্রক্রিয়াতেও কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে, যা কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঝুঁকি এড়াতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। তৃষ্ণা না পেলেও নিয়মিত পানি পান করতে হবে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দিনে প্রায় ৩ থেকে ৪ লিটার পানি পান উপকারী হতে পারে, বিশেষ করে গরমকালে।

এছাড়া এসির তাপমাত্রা ২৫ থেকে ২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা, দীর্ঘ সময় একটানা ঠান্ডা ঘরে না থাকা এবং মাঝে মাঝে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সময় কাটানো শরীরের জন্য ভালো। সুষম খাদ্য গ্রহণ ও অতিরিক্ত লবণ পরিহার করাও কিডনি সুস্থ রাখতে সহায়ক।

উপসংহার

এসির ঠান্ডা নিজে সমস্যা নয়, বরং এর কারণে তৈরি হওয়া অনিয়মিত পানি পানের অভ্যাসই কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই গরমে এসির আরাম নিলেও শরীরের সঠিক হাইড্রেশন নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ