ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

দামি স্কিন কেয়ার কাজ করছে না, দোষ কিন্তু এই বালিশের কভারের

২০২৬ জানুয়ারি ২১ ১৫:৩৭:২২

দামি স্কিন কেয়ার কাজ করছে না, দোষ কিন্তু এই বালিশের কভারের

আমরা সবাই চাই আমাদের ত্বক থাকুক সুস্থ, পরিষ্কার ও উজ্জ্বল। এই লক্ষ্যেই নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের স্কিন কেয়ার পণ্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু অনেক সময় নিয়ম মেনে যত্ন নেওয়ার পরও ত্বকে প্রত্যাশিত কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। তখন প্রশ্ন আসে—সমস্যাটা কোথায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে একটি সাধারণ কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে বালিশের কভার।

প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা আমরা বালিশের ওপর মুখ রেখে ঘুমাই। এই সময়ের মধ্যে বালিশের কভারে জমে থাকা ঘাম, তেল, ধুলা ও ব্যাকটেরিয়া সরাসরি ত্বকের সংস্পর্শে আসে। যদি বালিশের কভার নিয়মিত পরিষ্কার না করা হয়, তবে তা ধীরে ধীরে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার জন্ম দিতে পারে—যার প্রভাব তাৎক্ষণিক বোঝা না গেলেও ক্ষতি হয় প্রতিদিনই।

যে সমস্যাগুলো তৈরি হতে পারে

নোংরা বালিশের কভারে জমে থাকা ব্যাকটেরিয়া ও ময়লা ত্বকের রোমকূপে প্রবেশ করে ব্রণ, ব্ল্যাকহেডস ও হোয়াইটহেডসের মতো সমস্যা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দ্রুত ও বেশি মাত্রায় দেখা যায়।

এছাড়া নিয়মিত স্কিন কেয়ার করার পরও ত্বক ক্লান্ত ও নিষ্প্রভ দেখানোর একটি বড় কারণ হতে পারে অপরিষ্কার বালিশের কভার। দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা কভার ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা নষ্ট করে দেয়, ফলে ভালো মানের পণ্য ব্যবহার করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।

বালিশের কভারে জমে থাকা ধুলাবালি ও অ্যালার্জেন ত্বকে অ্যালার্জির সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এতে চুলকানি, লালভাব, ফুসকুড়ি কিংবা জ্বালাপোড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।

নোংরা বালিশের কভারের সঙ্গে দীর্ঘ সময় ত্বকের সংস্পর্শ থাকলে চোখ ও গালের চারপাশে সূক্ষ্ম রেখা ও বলিরেখা দ্রুত দেখা দিতে পারে। এতে ত্বক সময়ের আগেই বয়স্ক দেখাতে শুরু করে।

রাতে ব্যবহার করা ক্রিম বা সিরাম অনেক সময় বালিশের কভারে লেগে যায়। ফলে পণ্যের কার্যকারিতা কমে যায় এবং ত্বক ঠিকভাবে ময়েশ্চারাইজড বা রিপেয়ার হওয়ার সুযোগ পায় না।

এছাড়া চুলে ব্যবহৃত তেল, স্প্রে বা অন্যান্য হেয়ার প্রোডাক্ট বালিশের কভারে লেগে থাকে। ঘুমের সময় সেগুলো মুখের ত্বকের সংস্পর্শে এসে রোমকূপ বন্ধ করতে পারে। বিশেষ করে সিলিকনযুক্ত চুলের পণ্য গাল, চোয়াল ও কপালে ব্রণের কারণ হতে পারে।

যা করতে হবে

ত্বক সুস্থ রাখতে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। সপ্তাহে অন্তত দুইবার বালিশের কভার পরিবর্তন করার অভ্যাস করুন। সুতি, সিল্ক বা সাটিনের কভার ব্যবহার করলে ত্বকের সঙ্গে ঘর্ষণ কম হয় এবং ব্রণ ও রুক্ষতার ঝুঁকিও কমে।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং চুল পরিষ্কার ও বেঁধে রাখুন, যাতে চুলের তেল বা ধুলা সরাসরি মুখের ত্বকে না লাগে।

অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য বালিশের কভারে হালকা করে টি ট্রি অয়েল, ল্যাভেন্ডার বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানযুক্ত স্প্রে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ব্যাকটেরিয়া জমার ঝুঁকি কমে এবং ত্বক সুরক্ষিত থাকে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, যাদের ত্বক তৈলাক্ত বা সংবেদনশীল, তাদের ক্ষেত্রে বালিশের কভারের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ