ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

এই পরিচিত খাবারগুলোই নীরবে কমিয়ে দিচ্ছে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা

২০২৬ জানুয়ারি ১৮ ১৫:৩১:১৮

এই পরিচিত খাবারগুলোই নীরবে কমিয়ে দিচ্ছে পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা

বর্তমান বিশ্বে পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতা বা ফার্টিলিটি হ্রাস পাওয়া একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়। চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, বংশগতি বা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসও এই সমস্যার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অজান্তেই নিয়মিত খাওয়া কিছু পরিচিত খাবার শুক্রাণুর সংখ্যা ও গুণমান কমিয়ে দিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আধুনিক জীবনযাত্রায় সুস্থ থাকা এবং ভবিষ্যতে বাবা হওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখতে হলে কোন খাবারগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি, সে বিষয়েই আজকের এই প্রতিবেদন।

প্রজনন ক্ষমতার জন্য ক্ষতিকর ৫ খাবার

গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু খাবার শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে, যা সরাসরি পুরুষদের প্রজনন ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

প্রসেসড বা প্রক্রিয়াজাত মাংসসসেজ, সালামি, বেকন ও ক্যানজাত মাংসে থাকে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এসব খাবার খান, তাদের শুক্রাণুর গঠন ও গুণমান তুলনামূলকভাবে দুর্বল হয়।

অতিরিক্ত চিনি ও সফট ড্রিঙ্কসসফট ড্রিঙ্কস, এনার্জি ড্রিঙ্কস ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার শরীরে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি করে। এর ফলে শুক্রাণুর গতিশীলতা কমে যায়। পাশাপাশি অতিরিক্ত চিনি শরীরে মেদ বাড়িয়ে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যা ফার্টিলিটির জন্য ক্ষতিকর।

সয়াবিন ও সয়া জাতীয় খাবারসয়াবিনে থাকা আইসোফ্ল্যাভোনস নামক উপাদান উদ্ভিদজাত ইস্ট্রোজেন হিসেবে কাজ করে। পরিমিত পরিমাণে সয়া ক্ষতিকর না হলেও অতিরিক্ত সয়া মিল্ক, সয়া প্রোটিন বা সয়াবিন গ্রহণে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে যেতে পারে।

ট্রান্স ফ্যাট ও ভাজাপোড়া খাবারফাস্ট ফুড, পিৎজা, বার্গার ও কড়া তেলে ভাজা খাবারে থাকা ট্রান্স ফ্যাট রক্ত সঞ্চালনে বাধা সৃষ্টি করে। এতে প্রজনন অঙ্গের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শুক্রাণুর সংখ্যা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

প্লাস্টিক প্যাকেটের খাবার ও বিসফেনল-এ (BPA)খাবার সংরক্ষণে ব্যবহৃত প্লাস্টিক কনটেইনার বা বোতলে থাকা BPA নামক রাসায়নিক হরমোনের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে। প্লাস্টিক পাত্রে খাবার গরম করা বা প্লাস্টিক বোতলে পানি পান করা দীর্ঘমেয়াদে পুরুষদের প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে করণীয়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে প্রজনন ক্ষমতা অনেকাংশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

জিঙ্ক ও ফলিক অ্যাসিড: কুমড়ার বীজ, ডিম, কলা ও সবুজ শাকসবজি উপকারী

অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট: রঙিন ফল, বাদাম ও বীজ শুক্রাণুর গুণমান উন্নত করে

নিয়মিত ব্যায়াম: ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক

ধূমপান ও অ্যালকোহল বর্জন: শুক্রাণুর স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকদের মতে, প্রজনন ক্ষমতা কমে যাওয়া স্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন মেনে চললে মাত্র তিন মাসের মধ্যেই শুক্রাণুর স্বাস্থ্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যেতে পারে।

সময় থাকতে সচেতন হলেই ভবিষ্যতের সুস্থ জীবন ও পিতৃত্বের পথ অনেকটাই নিরাপদ রাখা সম্ভব।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ