ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাভির কোন মন্তব্যের কারণে তাকে আঘাত করেন পারেদেস

২০২৬ জুলাই ২০ ১১:২৩:১৩

গাভির কোন মন্তব্যের কারণে তাকে আঘাত করেন পারেদেস

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালের নাটকীয় সমাপ্তির পর শিরোপা উদযাপনের আনন্দকে ম্লান করে দেয় মাঠের এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে স্পেন ১-০ ব্যবধানে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দুই দলের ফুটবলারদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস এবং স্পেনের তরুণ তারকা গাভি।

শেষ বাঁশি বাজতেই স্প্যানিশ ফুটবলাররা শিরোপা উদযাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অন্যদিকে, টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ায় হতাশায় ডুবে যায় আর্জেন্টিনা। ঠিক সেই সময় গাভি পারেদেসের কাছে গিয়ে কিছু বলেন। কী বলা হয়েছিল, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, গাভির মন্তব্য ছিল অত্যন্ত উসকানিমূলক, যা মুহূর্তেই পারেদেসকে ক্ষিপ্ত করে তোলে।

রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে পারেদেস গাভিকে জোরে ধাক্কা দেন। ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যান স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। সঙ্গে সঙ্গে দুই দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং বেঞ্চের সদস্যরা মাঠে ছুটে এলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়েক মিনিট ধরে চলে ধাক্কাধাক্কি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়।

পরিস্থিতি শান্ত করতে মাঠে নেমে আসেন আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। তিনি নিজেই পারেদেসকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সতীর্থরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেন। এরপর ম্যাচ কর্মকর্তারা পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করেন।

শেষ পর্যন্ত শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি। বিশ্বকাপ ফাইনালের মতো মঞ্চে ম্যাচ-পরবর্তী লাল কার্ডের ঘটনা খুবই বিরল হওয়ায় এটি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ফুটবলে স্লেজিং বা কথার লড়াই নতুন কোনো বিষয় নয়। তবে গাভি ঠিক কী মন্তব্য করেছিলেন, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও স্পেন কিংবা আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশন এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে গাভির সেই রহস্যময় মন্তব্য এখনও রহস্যই রয়ে গেছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত