ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শীতে গরম পানিতে গোসল: উপকার নাকি ক্ষতি? জেনেনিন চিকিৎসকের পরামর্শ

২০২৬ জানুয়ারি ১০ ১২:৫২:০০

শীতে গরম পানিতে গোসল: উপকার নাকি ক্ষতি? জেনেনিন চিকিৎসকের পরামর্শ

শীত এলেই গোসল নিয়ে শুরু হয় দ্বিধা—গরম পানি ভালো, নাকি ঠান্ডা? অনেকের কাছে ঠান্ডা পানিতে গোসল যেন শাস্তির মতো, আবার অতিরিক্ত গরম পানিও শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, শীতে গোসলের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও উপকারী হলো কুসুম গরম বা উষ্ণ পানি, যা শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার সামান্য ওপরে থাকে।

গরম (উষ্ণ) পানিতে গোসলের উপকারিতা

১. রক্তসঞ্চালন বাড়ায়উষ্ণ পানি রক্তনালিকে প্রসারিত করে, ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তপ্রবাহ ভালো হয় এবং ঠান্ডাজনিত জড়তা কমে।

২. মাংসপেশি শিথিল করেশরীরচর্চা বা ভারী কাজের পর কুসুম গরম পানিতে গোসল করলে পেশির টান ও ব্যথা কমে। এ সময় ঠান্ডা পানিতে গোসল করলে পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে।

৩. ব্যথা ও জড়তা কমায়শীতে ঘাড়, কোমর বা হাঁটুর ব্যথা বেড়ে যায়। উষ্ণ পানিতে গোসল এই ব্যথা সাময়িকভাবে উপশম করে।

৪. সর্দি-কাশিতে আরাম দেয়গরম পানির ভাপ নাক ও শ্বাসনালি পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে, ফলে সাইনাস, গলাব্যথা ও কাশিতে কিছুটা স্বস্তি মেলে।

গরম পানিতে গোসলের ক্ষতিকর দিক

১. ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়অতিরিক্ত গরম পানি ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট করে, ফলে চামড়া রুক্ষ ও চুলকানিপ্রবণ হয়ে ওঠে।

২. চুল ও মাথার ত্বকের ক্ষতি করেগরম পানি চুলের আর্দ্রতা কমিয়ে খুশকি ও চুল পড়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

৩. চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়েএকজিমা, অ্যালার্জি বা সংবেদনশীল ত্বকে গরম পানি সমস্যা আরও বাড়াতে পারে।

৪. খুব গরম হলে পোড়া লাগার আশঙ্কাবিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে পানি অতিরিক্ত গরম হলে ত্বক পুড়ে যেতে পারে।

নিরাপদভাবে শীতে গোসল করার টিপস

পানির তাপমাত্রা রাখুন ৩০–৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে।

গোসলের আগে হাত দিয়ে পানির তাপমাত্রা পরীক্ষা করুন।

গোসলের পর শরীরে ময়েশ্চারাইজার, গ্লিসারিন বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করুন।

মাথার ত্বকে সামান্য নারকেল তেল বা কন্ডিশনার ব্যবহার করলে শুষ্কতা কমবে।

চুল ধোয়ার সময় খুব গরম পানি এড়িয়ে চলুন, কুসুম গরম বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ভালো।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ