ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

সাধারণ মাথাব্যথা নাকি ব্রেইন ক্যান্সার? জেনে নিন পার্থক্য ও সতর্কতার উপায়

২০২৫ অক্টোবর ০৭ ১৫:৪১:২৯

সাধারণ মাথাব্যথা নাকি ব্রেইন ক্যান্সার? জেনে নিন পার্থক্য ও সতর্কতার উপায়

মাথাব্যথা এমন এক সাধারণ সমস্যা যা প্রায় সবাই কখনও না কখনও অনুভব করেন। তবে প্রতিটি মাথাব্যথা নিরীহ নয়—কিছু ক্ষেত্রে এটি হতে পারে প্রাণঘাতী রোগ ব্রেইন ক্যান্সার–এর প্রাথমিক ইঙ্গিত। চিকিৎসকরা বলছেন, অনেক সময় প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত না হওয়ায় বিপদের মাত্রা বাড়ে। তাই দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী মাথাব্যথায় ভুগলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু প্রাপ্তবয়স্ক নয়, শিশুদের মধ্যেও ব্রেইন ক্যান্সারের ঝুঁকি দেখা যায়। শিশুদের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বাধিক ক্যান্সার। বিশেষ করে সাড়ে ছয় বছরের নিচে বয়সী শিশুদের এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। ছেলেশিশুরা তুলনামূলকভাবে এ রোগে বেশি ভোগে। তাই শিশু যদি বারবার মাথাব্যথার অভিযোগ করে, সেটিকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।

ভারতের নিউরোলজিস্ট ডা. আয়ুশ পান্ডে জানান, ব্রেইন ক্যান্সার হলো মস্তিষ্কের কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি, যার ফলে মস্তিষ্কে অস্বাভাবিক টিস্যু তৈরি হয়। যদিও সব টিউমার ক্যান্সারে পরিণত হয় না, তবু কিছু ক্ষেত্রে এটি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। এই ক্যান্সার দুটি ভাগে বিভক্ত—বিনাইন (ক্যান্সারবিহীন), যা চিকিৎসার মাধ্যমে সারানো যায়, এবং ম্যালিগন্যান্ট (ক্যান্সারযুক্ত), যা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতাকে ব্যাহত করে।

সাধারণ মাথাব্যথা সাধারণত মানসিক চাপ, ঘুমের ঘাটতি বা ঠান্ডা-গরমের কারণে হয়ে থাকে এবং বিশ্রাম বা ওষুধে কমে যায়। কিন্তু ব্রেইন ক্যান্সারের মাথাব্যথা হয় ভিন্ন প্রকৃতির—এটি বেশিরভাগ সময় সকালে তীব্রভাবে শুরু হয়, ওষুধে কমে না, বরং সময়ের সঙ্গে বেড়ে যায়।

এই ক্যান্সারের অন্যান্য উপসর্গগুলোর মধ্যে রয়েছে—

ঘন ঘন বমি বা বমি বমি ভাব

কথা বলতে অসুবিধা

শরীরের একপাশে দুর্বলতা বা অসাড়তা

ভারসাম্য হারানো

দৃষ্টি বা শ্রবণ সমস্যা

মানসিক বিভ্রান্তি ও স্মৃতিশক্তি হ্রাস

চিকিৎসকরা বলছেন, যদি মাথাব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং এর সঙ্গে বমি, খিঁচুনি বা দৃষ্টিজনিত সমস্যা দেখা দেয়, তবে তা অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় ব্রেইন ক্যান্সার শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেকটাই সফল হয়।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ব্রেইন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে। আবার যেসব শিশুর ক্যান্সারের পূর্ব ইতিহাস আছে, তাদের পরবর্তী জীবনে এই রোগের ঝুঁকি বেশি। এছাড়া লিউকেমিয়া রোগী বা জন্মগত ত্রুটি থাকা ব্যক্তিরাও ঝুঁকিতে থাকেন।

সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

“সব মাথাব্যথা ভয়ঙ্কর নয়, তবে যেগুলো বারবার হয় এবং ওষুধেও কমে না—সেগুলো অবহেলা করা বিপজ্জনক। সময়মতো চিকিৎসাই পারে জীবন বাঁচাতে।”

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত