ঢাকা, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

হঠাৎ ডায়াবিটিস বাড়লে অবহেলা নয়, লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ

২০২৬ জানুয়ারি ৩০ ১৬:৩৬:০৪

হঠাৎ ডায়াবিটিস বাড়লে অবহেলা নয়, লুকিয়ে থাকতে পারে বড় বিপদ

হঠাৎ করে ডায়াবিটিস ধরা পড়া কিংবা দীর্ঘদিন নিয়ন্ত্রণে থাকা ডায়াবিটিসের আচমকা লাগামছাড়া হয়ে যাওয়া অনেক সময় শরীরের ভেতরের বড় কোনো সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। বিশেষ করে ৫০–৬০ বছর বয়সের পর যদি ডায়াবিটিস ধরা পড়ে এবং তার পেছনে স্পষ্ট কোনো কারণ না থাকে, তবে চিকিৎসকদের মতে সতর্ক হওয়া জরুরি।

চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, টাইপ-২ ডায়াবিটিসের সঙ্গে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। অগ্ন্যাশয় শরীরের ইনসুলিন উৎপাদনের প্রধান অঙ্গ। এই অঙ্গে ক্যানসার হলে প্রথমেই ইনসুলিন তৈরির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়, যার ফলে হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং নতুন করে ডায়াবিটিস দেখা দিতে পারে। আবার আগে থেকে থাকা ডায়াবিটিসও আচমকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

কলকাতার ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায় জানান, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে—৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সে নতুন করে ডায়াবিটিস ধরা পড়া বা হঠাৎ অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে পরবর্তী ২–৩ বছরের মধ্যে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের ঝুঁকি ৬–৮ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসাউন্ড, সিটি স্ক্যানসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত বলে মত তাঁর।

তবে এই বিষয়ে সম্পূর্ণ একমত নন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অরিন্দম বিশ্বাস। তাঁর মতে, ভারতের মতো দেশে অনেক ক্ষেত্রেই নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার অভাবে দেরিতে ডায়াবিটিস ধরা পড়ে। এতে সব সময় ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে না। বিশেষ করে গ্রামীণ বা পিছিয়ে থাকা এলাকায় এই যুক্তি সব ক্ষেত্রে খাটে না বলেও মনে করেন তিনি।

দুই চিকিৎসকেরই মত, সব ডায়াবিটিসই ক্যানসারের লক্ষণ নয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডায়াবিটিসের পেছনে খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও বংশগত কারণ কাজ করে। তবে নতুন ডায়াবিটিসের সঙ্গে যদি অকারণে ওজন কমে যাওয়া, ক্ষুধামান্দ্য, পেট বা পিঠে দীর্ঘদিনের অস্বস্তি দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের বড় সমস্যা হলো, শুরুর দিকে তেমন স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ ধরা পড়ে দেরিতে। তাই নতুন করে ডায়াবিটিস ধরা পড়া বা হঠাৎ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়াকে এখন আর হালকাভাবে দেখছেন না চিকিৎসকেরা। প্রয়োজন হলে রক্তপরীক্ষার পাশাপাশি বিশেষ স্ক্যান ও বিস্তারিত পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ