ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

৪০-এর পরেও ঘি ত্বককে রাখবে বলিরেখা বিহীন টানটান ও উজ্জ্বল

২০২৬ জানুয়ারি ২২ ১২:২৯:৫৩

৪০-এর পরেও ঘি ত্বককে রাখবে বলিরেখা বিহীন টানটান ও উজ্জ্বল

বয়স বাড়বে, কিন্তু চেহারায় তার ছাপ পড়বে না—এমন ইচ্ছা কমবেশি সবারই। তারুণ্য ধরে রাখতে ত্বকের যত্নে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় যে শব্দটি ঘুরে ফিরে আসে, তা হলো কোলাজেন। ত্বক টানটান রাখা, বলিরেখা কমানো এবং স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে এই প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণেই কোলাজেন ক্রিম, ফেসিয়াল, ট্যাবলেট কিংবা পাউডারের দিকে ঝুঁকছেন অনেকে। তবে তারকাদের পুষ্টিবিদের দাবি, এসব ব্যয়বহুল পণ্যের প্রয়োজন নাও হতে পারে। বরং ঘরে থাকা একটি সাধারণ উপাদানেই শরীরে কোলাজেন উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

ঘিয়েই মিলতে পারে কোলাজেনের সমাধান

বলিউড অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন ও ক্যাটরিনা কইফের ডায়েট পরিকল্পনার দায়িত্বে থাকা মুম্বইয়ের পুষ্টিবিদ শ্বেতা শাহ জানাচ্ছেন এক সহজ রুটিনের কথা। তাঁর মতে,

“প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম জলে এক চা চামচ ঘি মিশিয়ে খেলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ে এবং শরীরে স্বাভাবিকভাবে কোলাজেন উৎপাদনেও সাহায্য করে।”

শ্বেতা শাহের দাবি, নিয়ম মেনে এই অভ্যাস বজায় রাখলে ৮ থেকে ৯ সপ্তাহের মধ্যেই ত্বকের গঠনে পরিবর্তন চোখে পড়তে পারে। যদিও প্রথম দুই-তিন সপ্তাহে তেমন কোনো পার্থক্য বোঝা নাও যেতে পারে। কোলাজেন ট্যাবলেটের বিকল্প হিসেবেও এই পদ্ধতি কাজ করতে পারে বলে মত তাঁর।

ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গাজর ও কুমড়োর স্যুপ খাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন এই পুষ্টিবিদ।

ঘি কি সত্যিই কোলাজেন বাড়ায়?

এ বিষয়ে মত দিয়েছেন ত্বক বিশেষজ্ঞরাও। মুম্বইয়ের খ্যাতনামা ডার্মাটোলজিস্ট রেশমি শেট্টী এক পডকাস্টে জানিয়েছেন,

“ঘিতে থাকা ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে ত্বকের ঔজ্জ্বল্য ও তারুণ্য ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

অন্যদিকে দিল্লির পুষ্টিবিদ ডিম্পল জাংরা বলেন,

“আয়ুর্বেদে ঘিকে পুনরুজ্জীবক খাদ্য হিসেবে ধরা হয়। কিছু বৈজ্ঞানিক গবেষণাও ইঙ্গিত দেয়, ঘি কোলাজেন উৎপাদন বাড়াতে এবং ত্বকের টানটান ভাব বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।”

৪০-এর পরেও কি কার্যকর?

তবে বয়স ৪০ পেরোলে শরীরে হরমোনজনিত পরিবর্তনের কারণে কোলাজেনের উৎপাদন স্বাভাবিকভাবেই কমতে থাকে। সে ক্ষেত্রে ঘি কতটা কার্যকর, তা নিয়ে এখনও পর্যাপ্ত গবেষণা হয়নি বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে একে চূড়ান্ত সমাধান হিসেবে না দেখে, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবেই ঘিকে গ্রহণ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

বিশেষ সতর্কতা

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের কোলেস্টেরল, লিভার বা হজম সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত ঘি খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনটি সাধারণ তথ্যভিত্তিক। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ