ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

অনিয়মিত খাবারে বাড়ছে শিশুদের সুগার ,খাদ্যাভ্যাস বদলানোই মিলবে সমাধান

২০২৫ নভেম্বর ২২ ১৫:৩৩:১৪

অনিয়মিত খাবারে বাড়ছে শিশুদের সুগার ,খাদ্যাভ্যাস বদলানোই মিলবে সমাধান

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডায়াবেটিস, ওবেসিটি ও ফ্যাটি লিভারের মতো জীবনধারাজনিত রোগ শিশুদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, এর প্রধান কারণ অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস। বাড়ির সুষম খাবারের বদলে পিৎজা, বার্গার, চিপস ও উচ্চ চিনি–যুক্ত খাবারের প্রতি শিশুদের ঝোঁক তাদের রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে ছোটরাও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট বয়স থেকেই খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারলে ভবিষ্যতে অনেক বড় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। গোটা শস্য, সবজি, ডাল, ফল এবং প্রোবায়োটিক খাদ্য শিশুদের রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

গোটা শস্য ও ওটস

ওটস, ব্রাউন রাইস, মিলেট ও অন্যান্য দানাদার শস্য শিশুদের ডায়েটে নিয়মিত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা। এগুলোর দ্রবণীয় ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখে এবং হজমশক্তি উন্নত করে।

তাজা ফল

মৌসুমি তাজা ফল শুধু পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করে না, শিশুর বুদ্ধি ও সামগ্রিক বিকাশেও ভূমিকা রাখে। স্ন্যাকস বা টিফিনে সহজেই ফল দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।

ডাল ও কলাই

বিভিন্ন ধরনের ডাল-কলাই শিশুদের শরীরে শক্তি জোগায় এবং দৈনন্দিন পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে। হজমশক্তির সমস্যা থাকলেও এগুলো সহজে খাওয়া যায়।

বাদাম ও বীজ

আখরোট, আমন্ড, কাজুবাদাম, ফ্ল্যাক্স সিডস ও চিয়া সিডস শিশুদের শরীরে প্রোটিন, ম্যাগনেশিয়াম ও ফাইবার সরবরাহ করে যা ইনসুলিন হরমোনের কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও এগুলোর ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

টক দই ও প্রোবায়োটিক খাবার

প্রোবায়োটিক খাবার শিশুদের অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে, যা তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়। নিয়মিত টক দই খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, শিশুর খাবারের তালিকায় এসব স্বাস্থ্যকর খাবার যুক্ত করলে ভবিষ্যতে ফ্যাটি লিভার, ওবেসিটি ও ডায়াবেটিসের মতো রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ