ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

লাল না সাদা ডিম, কোনটি আসলে বেশি পুষ্টিকর, অবাক করা তথ্য জানুন

২০২৫ নভেম্বর ০৬ ২১:১২:২৮

লাল না সাদা ডিম, কোনটি আসলে বেশি পুষ্টিকর, অবাক করা তথ্য জানুন

বাংলাদেশের বাজারে প্রতিদিনই আমরা দেখি দুটি রঙের ডিম— সাদা ও লাল। অনেকের ধারণা, লাল খোসার ডিম বেশি পুষ্টিকর, আবার কেউ বিশ্বাস করেন সাদা ডিমই আসলে স্বাস্থ্যসম্মত। কিন্তু আসল সত্যটা কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন— ডিমের রঙ নয়, বরং মুরগির খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের পরিবেশই নির্ধারণ করে ডিমের পুষ্টিগুণ।

ডিমের রঙ কেন ভিন্ন?

ডিমের রঙের পার্থক্য মূলত নির্ভর করে মুরগির জাত ও তাদের শরীরের ভেতরে থাকা ‘শেল গ্ল্যান্ড’-এর ওপর। এই অংশ থেকেই ডিমের খোসায় বাদামী বা লালচে রঙের রঞ্জক (pigment) যোগ হয়। সাদা পালকের মুরগি সাধারণত সাদা ডিম পাড়ে, আর গাঢ় পালকের মুরগি পাড়ে লাল বা বাদামী ডিম।বিশ্বখ্যাত মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, একটি মুরগির ডিম তৈরি হতে গড়ে ২৬ ঘণ্টা সময় লাগে— যার শেষ ধাপেই খোসার রঙ নির্ধারিত হয়।

রঙে নয়, খাদ্যাভ্যাসে নির্ভর পুষ্টিগুণ

পুষ্টিবিদরা একমত— লাল ও সাদা ডিমের পুষ্টিগুণের মধ্যে প্রায় কোনো পার্থক্য নেই।যদিও কিছু গবেষণায় দেখা গেছে লাল ডিমে সামান্য বেশি ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, তবে তা এতই ক্ষুদ্র যে স্বাস্থ্যগত কোনো পার্থক্য তৈরি করে না।মূল পার্থক্য তৈরি করে মুরগির খাদ্যাভ্যাস ও যত্নের মান।

মুরগির খাবার ও পরিবেশই নির্ধারণ করে গুণমান

যেসব মুরগি প্রাকৃতিক উপায়ে খাবার খোঁজে— যেমন ঘাস, পোকামাকড় বা শস্যদানা— তাদের ডিমে থাকে বেশি ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ই ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড।অন্যদিকে, যেসব মুরগিকে বিশেষ ফিড (ওমেগা-৩, ভিটামিন যুক্ত খাদ্য) দেওয়া হয়, তাদের ডিমে এই উপাদান আরও বেশি পরিমাণে থাকে।

খামারে লালন করা মুরগির ডিমে প্রোটিন বেশি থাকে, তবে ফ্যাট তুলনামূলকভাবে কম।অন্যদিকে, গৃহপালিত মুরগির ডিমে ফ্যাট কিছুটা বেশি থাকলেও ভিটামিন-এ ও ডি বেশি পরিমাণে পাওয়া যায়, কারণ তারা সূর্যের আলো বেশি পায়।

লাল ডিমের দাম কেন বেশি?

লাল ডিম সাধারণত ‘ডুয়েল ব্রিড’ জাতের মুরগি পাড়ে— যেগুলো একইসাথে ডিম ও মাংস উৎপাদনের জন্য পালন করা হয়। এদের খাদ্য খরচ বেশি হওয়ায়, ডিমের দামও কিছুটা বেশি পড়ে। সাদা ডিমের মুরগি আকারে ছোট এবং খাদ্যগ্রহণ কম করে, ফলে সেগুলোর দাম তুলনামূলক কম থাকে।

বিশেষজ্ঞের মত

পুষ্টিবিদ ডা. সৈয়দ তাসনিম হাসিন চৌধুরীর মতে,

“ডিমের রঙের কোনো পুষ্টিগত প্রভাব নেই। বরং মুরগি কী খাচ্ছে, কোথায় থাকে এবং কীভাবে যত্ন নেওয়া হয়— সেটিই আসল বিষয়।”

বাংলাদেশ কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, একটি ৫০ গ্রাম ওজনের ডিমে থাকে প্রায় ৭২ ক্যালোরি ও ৫ গ্রাম ফ্যাট, যা সাদা ও লাল— উভয় ধরনের ডিমেই প্রায় সমান।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত

লাইফস্টাইল এর অন্যান্য সংবাদ