ঢাকা, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলকে জামায়াতের আল্টিমেটাম, না মানলে স্পিকার ও ইসিতে চিঠি

২০২৬ জুলাই ২২ ২৩:০৪:০৪

এমপি পদ ছাড়তে গাজী নজরুলকে জামায়াতের আল্টিমেটাম, না মানলে স্পিকার ও ইসিতে চিঠি

দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও নৈতিক আচরণসংক্রান্ত অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী মো. নজরুল ইসলামকে এমপি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেওয়া হবে।

জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, গাজী নজরুল এখন আর দলের সদস্য নন। ফলে তিনি জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক বা সাংগঠনিক অধিকারও হারিয়েছেন। এ কারণে তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সংবিধান ও প্রচলিত আইনের আওতায় যেসব পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, দল সেগুলো গ্রহণ করবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরপর অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে জামায়াত। তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার দাবি করে দলটি। পরে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে দলীয় গঠনতন্ত্রের ৬২ ধারা অনুযায়ী গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের একাধিক সদস্য জানিয়েছেন, গাজী নজরুলকে স্বেচ্ছায় এমপি পদ থেকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তিনি এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দলের কাছে জানাননি। একই সঙ্গে তিনি পদত্যাগ করবেন না—এমন অবস্থানও প্রকাশ করেননি।

দলটির একজন সংসদ সদস্যের দাবি, সংসদীয় দলে গাজী নজরুলের পক্ষে কেউ নেই। অধিকাংশ সদস্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের মতে, তিনি যদি আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে সংসদ সদস্য পদ ধরে রাখার চেষ্টা করেন, তাহলে কিছু সময় পদে থাকতে পারেন। তবে সে ক্ষেত্রে তিনি জামায়াতের সংসদীয় দলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওতে থাকা ১৮ বছর বয়সী এক তরুণী নিজেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী বলে পরিচয় দেন। গাজী নজরুলও ওই তরুণীকে নিজের স্ত্রী বলে দাবি করেন। তরুণীর বাবা এবং গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রীও বিয়ের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তবে বিয়ে নিবন্ধন নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কাজী জানান, বিয়ের অনুষ্ঠান ১৭ জুন হলেও নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ১৯ জুলাই। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন করা যায়। তবে নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে আইনগত জটিলতা তৈরি হতে পারে।

এদিকে গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া কী হবে, তা এখন নির্ভর করছে তার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এবং স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত