ঢাকা, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

নতুন পে স্কেল স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের

২০২৬ জুলাই ২০ ২৩:০৩:৩৪

নতুন পে স্কেল স্থগিতের পরামর্শ আইএমএফের

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও সরকারের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজেটের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনায় নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখার পরামর্শ দিয়েছে আইএমএফ। তবে সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে তারা নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে না।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আইএমএফের বাংলাদেশ ও হংকংবিষয়ক মিশনপ্রধান ইভো ক্রজনারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল গত ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করে। সফরকালে তারা অর্থ বিভাগ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করে নতুন পে স্কেলের অগ্রগতি ও সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করে।

বৈঠকে আইএমএফ জানতে চায়, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের কত ব্যয় হবে এবং এর অর্থায়ন কীভাবে করা হবে। জবাবে অর্থ বিভাগ জানায়, প্রায় ১২ বছর ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল ঘোষণা করা হয়নি। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন এখন প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

সরকারের হিসাব অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গভাবে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে। তবে এই ব্যয় একবারে নয়, দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে শুরুতেই পুরো অর্থের প্রয়োজন হবে না বলে সরকারের ধারণা।

আইএমএফের পক্ষ থেকে আলোচনায় বলা হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে আন্তর্জাতিক ঋণ সহায়তা নিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বড় অঙ্কের অতিরিক্ত সরকারি ব্যয় আর্থিক ভারসাম্যের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে সরকারের ঋণের প্রয়োজনও বাড়তে পারে। এ কারণে পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি কিছুটা পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব কি না, সে বিষয়েও জানতে চায় সংস্থাটি।

তবে অর্থ বিভাগ স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, চলতি অর্থবছরের বাজেটেই নতুন পে স্কেল কার্যকরের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাই এখন এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার সুযোগ নেই।

অর্থ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, আইএমএফ সরাসরি পে স্কেল বাতিল বা স্থগিত করার নির্দেশ দেয়নি। তবে তারা ব্যয়ের উৎস, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়েছে।

সরকারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন পে স্কেল কার্যকর হলে মূল্যস্ফীতির ওপর সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে। ২০১৫ সালে সর্বশেষ পে স্কেল বাস্তবায়নের সময়ও এমন প্রভাব দেখা গিয়েছিল, যদিও তা প্রায় তিন মাস স্থায়ী ছিল। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের বেশি থাকায় এবার এর প্রভাব ছয় থেকে সাত মাস পর্যন্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে সরকারের বিশ্বাস।

এদিকে নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম থেকে ১০ম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে।

সরকার এখন নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে। তবে অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং আইএমএফের পর্যবেক্ষণ—সব মিলিয়ে বিষয়টি আগামী দিনগুলোতে দেশের অর্থনৈতিক আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত