ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বন্ধ দেশের একমাত্র শোধনাগার, কী প্রভাব পড়বে জ্বালানিতে?

২০২৬ এপ্রিল ১৪ ১৭:০৭:০২

বন্ধ দেশের একমাত্র শোধনাগার, কী প্রভাব পড়বে জ্বালানিতে?

অপরিশোধিত তেলের ঘাটতির কারণে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ বলছে, আপাতত সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো সংকট তৈরি হবে না।

Eastern Refinery Limited কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সর্বশেষ সোমবার বিকেলে শোধন কার্যক্রম চালানো হয়। এরপর কাঁচা তেলের মজুদ প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

জানা গেছে, মহেশখালীর সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (SPM) পাইপলাইনে জমে থাকা প্রায় ৫ হাজার টন তেল এবং ট্যাংকের তলানিতে থাকা অবশিষ্ট মজুদ ব্যবহার করেই এতদিন শোধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। তবে সেটিও শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন পুরো কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

সাধারণ সময়ে এই শোধনাগারে দৈনিক প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করা হয়। কিন্তু সংকট শুরু হওয়ার পর উৎপাদন কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়েছিল। গত মার্চের শুরুতেই ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

Bangladesh Petroleum Corporation এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, যা এই শোধনাগারেই পরিশোধন করা হয়।

বর্তমান সংকটের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিকে দায়ী করা হচ্ছে। বিশেষ করে Iran–United States tensions এর প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে অপরিশোধিত তেল আমদানি ব্যাহত হয়েছে।

তবে জ্বালানি বিভাগ আশ্বস্ত করেছে, দেশে ইতোমধ্যে পর্যাপ্ত পরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জ্বালানি ব্যবহারে তাৎক্ষণিক কোনো প্রভাব পড়বে না। নতুন চালান মে মাসের প্রথম সপ্তাহে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত