ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর

২০২৬ এপ্রিল ১২ ২৩:৪৩:৪৩

সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বড় সুখবর

দেশের সরকারি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য আসছে বড় সুযোগের বার্তা। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শূন্যপদ পূরণে এবার বড় আকারের নিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে থাকা বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ পূরণে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই প্রায় পাঁচ লাখ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারি সূত্র বলছে, ইতোমধ্যে এই নিয়োগ পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বাস্তবায়নের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই নিয়োগ সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন-এর চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেম জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতজন নিয়োগ দেওয়া সম্ভব, সে বিষয়ে তাদের কাছে পরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে। কমিশন ইতোমধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা জমা দিয়েছে, তবে কোন পদে কতজন নেওয়া হবে তা বিস্তারিত যাচাই করে নির্ধারণ করা হবে।

অন্যদিকে, স্বাস্থ্যখাতেও বড় নিয়োগের প্রস্তুতি চলছে। সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী প্রায় এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে বড় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা হাতে এসেছে এবং এখন বাস্তবায়নের কাজ এগোচ্ছে। একইভাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীও এই নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করার কথা নিশ্চিত করেছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪ লাখের বেশি সরকারি কর্মচারী কর্মরত থাকলেও প্রায় ৪ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি—সব পর্যায়েই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পদ ফাঁকা আছে, যা পূরণ করতেই এই বৃহৎ নিয়োগ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এই নিয়োগ কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হবে। চলতি অর্থবছরের শেষাংশে এবং আগামী অর্থবছরের শুরুতে ধাপে ধাপে এই ব্যয় বহন করা হবে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে সরকারি সেবার মানও উন্নত হবে। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত