ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তেলের দাম নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী বিশেষজ্ঞদের

২০২৬ মার্চ ৩১ ১৮:২০:০২

তেলের দাম নিয়ে যে ভবিষ্যদ্বাণী বিশেষজ্ঞদের

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে পড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে United States ও Iran-এর মধ্যে সংঘাত তীব্র হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে যদি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় হামলা হয় অথবা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এই প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের বিঘ্ন সরাসরি বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে নাড়িয়ে দিতে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষক Tamas Varga জানিয়েছেন, যদি প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বাজারে তাৎক্ষণিক চাপ তৈরি হবে এবং খুব দ্রুত দাম বৃদ্ধি পাবে। এতে শুধু জ্বালানি খাত নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির বিভিন্ন খাতেই এর প্রভাব পড়বে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র Khark Island লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন কোনো পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে ইরানের তেল রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়বে।

এই উত্তেজনার প্রভাব ইতোমধ্যেই ইউরোপে পড়তে শুরু করেছে। Germany জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে, আর ব্যবসায়ীরা বাড়তি খরচের কারণে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করতে বাধ্য হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছেন। এতে সাধারণ ভোক্তাদের ওপরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। জ্বালানির দাম বৃদ্ধি মানে শুধু পরিবহন খরচ বাড়া নয়, বরং খাদ্য, শিল্পপণ্যসহ প্রায় সব খাতেই মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা থাকে।

সব মিলিয়ে, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনা কত দ্রুত প্রশমিত হয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ এবং বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত