ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে বরিশাল: ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা

২০২৬ মার্চ ৩১ ১৭:২০:১৯

ধীরে ধীরে দেবে যাচ্ছে বরিশাল: ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগরী Barisal ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে—এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। কয়েক বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১.৬৬ মিলিমিটার করে ভূমির স্তর নিচে নামছে। কিছু ক্ষেত্রে এই পতনের পরিমাণ আরও বেশি, যা ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। এই প্রক্রিয়া চোখে ধরা না পড়লেও এর প্রভাব ইতোমধ্যেই বিভিন্ন স্থাপনায় দেখা দিতে শুরু করেছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করে Geological Survey of Bangladesh এবং জার্মানির Federal Institute for Geosciences and Natural Resources। ছয় বছর ধরে সংগৃহীত স্যাটেলাইট তথ্য, ভূ-গর্ভস্থ উপাদান বিশ্লেষণ এবং নগর অবকাঠামোর পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই ফলাফল পাওয়া যায়। যদিও গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধীরে ধীরে দেবে যাওয়ার কারণে নগরীর ভবনগুলোতে সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কোথাও কোথাও নতুন নির্মিত ভবনও অল্প পরিমাণে হেলে পড়ার প্রমাণ মিলেছে। বিশেষ করে বৌদ্ধপাড়া, বিএম কলেজ এলাকা, বটতলা ও করিম কুটির এলাকায় এমন প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। এসব পরিবর্তন এখনো বড় বিপদ হিসেবে দৃশ্যমান না হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

এই পরিস্থিতির পেছনে প্রধান দুটি কারণ চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, অপরিকল্পিত নগরায়ণ—যেখানে দ্রুত গতিতে বহুতল ভবন নির্মাণের ফলে মাটির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, ভূ-গর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত উত্তোলন। দীর্ঘদিন ধরে গভীর নলকূপের মাধ্যমে পানি তোলার ফলে মাটির নিচে ফাঁকা জায়গা তৈরি হচ্ছে, যা পরবর্তীতে উপরের মাটি বসে গিয়ে পূরণ করছে। ফলে পুরো এলাকা ধীরে ধীরে নিচে নেমে যাচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আগে যেখানে ৭০০–৮০০ ফুট গভীরে সহজেই সুপেয় পানি পাওয়া যেত, এখন অনেক ক্ষেত্রে ১০০০–১১০০ ফুট পর্যন্ত গভীরে যেতে হচ্ছে। একইভাবে কৃষি খাতেও পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী ৫০ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তখন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এবং নগরীর ভূমির স্তর প্রায় সমান হয়ে যেতে পারে। এর ফলে সামান্য জোয়ার বা বন্যাতেই বড় অংশ প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

সমাধান হিসেবে তারা ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমিয়ে নদী, খাল ও পুকুরের পানি পরিশোধন করে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এই ঐতিহ্যবাহী নগরী বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত