ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর আসল কারণ জানাল সরকার

২০২৬ মার্চ ২৭ ১৭:৪৬:৫৬

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর আসল কারণ জানাল সরকার

দেশজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন সরকার স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে—এই মুহূর্তে দাম না বাড়ানোর পেছনে রয়েছে বড় একটি অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী Anindya Islam Amit জানিয়েছেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে সরকার প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে।

শুক্রবার যশোরে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশ ইতোমধ্যে জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার এখনো সেই পথে হাঁটেনি। কারণ, জ্বালানির দাম বাড়লে সরাসরি প্রভাব পড়ে বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর—যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, সরকার প্রতিদিন প্রায় ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশের বাজারে তার চাপ পুরোপুরি পড়তে দিচ্ছে না সরকার।

তিনি আরও জানান, এপ্রিল মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানির চাহিদা পূরণের মতো পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য অন্তত ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে দেশে জ্বালানির চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগে যেখানে দৈনিক প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের প্রয়োজন হতো, ঈদকে সামনে রেখে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ থেকে ২৫ হাজার টনে। একইভাবে পেট্রল ও অকটেনের চাহিদাও বেড়েছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর পেছনে সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই ভর্তুকি কতদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত