ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

স্বর্ণবাজারে নতুন চমক

২০২৬ মার্চ ২৭ ০৯:৩২:৩৬

স্বর্ণবাজারে নতুন চমক

আবারও আলোচনায় এসেছে স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে দরপতনের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী মার্কিন ডলার, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ সুদের আশঙ্কা—সব মিলিয়ে সোনার বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ১.২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৪৫০ ডলারের কাছাকাছি। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও সোনার দর প্রায় ২.৩ শতাংশ কমে ৪,৪৪৭ ডলারে নেমে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগকারীদের সোনা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে, কারণ সোনা কোনো সুদ প্রদান করে না।

বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান কিটকো মেটালসের বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে সোনার দাম আরও কমে ৪,০০০ ডলারের নিচেও নামতে পারে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং সুদের হার কমার ইঙ্গিত মিললে আবারও দাম ৫,০০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

শুধু সোনা নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুতেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, যা সামগ্রিকভাবে ধাতব বাজারে চাপের ইঙ্গিত দেয়।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে দরপতনের প্রভাব পড়লেও দেশের বাজারে সোনার দাম এখনো তুলনামূলক বেশি অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৩০ হাজার ৪৮১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন এলেও দেশের বাজারে এখনো বড় ধরনের স্বস্তি আসেনি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের এই নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশের বাজারেও আরও সমন্বয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত