ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রথম ধাপেই সুবিধা পাবে ৩৭ হাজারের বেশি পরিবার

২০২৬ মার্চ ০৯ ১৬:৪০:৪৮

‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রথম ধাপেই সুবিধা পাবে ৩৭ হাজারের বেশি পরিবার

বাংলাদেশে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর জন্য নতুন সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করতে যাচ্ছে সরকার। পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৩৭ হাজার ৫৬৪টি নারী প্রধান পরিবার এই সুবিধার আওতায় আসবে।

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন। তিনি জানান, আগামী মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মন্ত্রী বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা। পরিবারের নারী সদস্যকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামেই ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হবে, যাতে সরকারি বিভিন্ন সুবিধা সহজে তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়।

ফ্যামিলি কার্ডে কী সুবিধা পাওয়া যাবে

সরকারি এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবে। তবে কোনো পরিবারে সদস্যসংখ্যা পাঁচের বেশি হলে পরিস্থিতি বিবেচনায় একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টিও দেখা হবে।

পাইলট প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত পরিবারগুলোকে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে একই মূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, যে নারী গৃহপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন, তিনি যদি অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা সহায়তা পেয়ে থাকেন, তাহলে সেই সুবিধা বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা তাদের প্রাপ্য সরকারি সুবিধা পেতে থাকবেন।

যেভাবে বাছাই করা হয়েছে উপকারভোগী পরিবার

এই কর্মসূচির জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা সরাসরি বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, গৃহস্থালি সামগ্রী ও আয়-ব্যয়ের তথ্য সংগ্রহ করেন।

সংগৃহীত তথ্য পরে সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রক্সি মিনস টেস্ট পদ্ধতিতে বিশ্লেষণ করে পরিবারগুলোকে শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।

প্রাথমিকভাবে প্রায় ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল, কিন্তু যাচাই-বাছাই শেষে ৩৭ হাজার ৫৬৪টি পরিবারকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচন করা হয়েছে।

আধুনিক প্রযুক্তির স্মার্ট কার্ড

এই কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ফ্যামিলি কার্ড হবে একটি স্মার্ট কার্ড। এতে থাকবে কন্টাক্টলেস চিপ, কিউআর কোড এবং এনএফসি প্রযুক্তি। ফলে এটি হবে নিরাপদ, টেকসই এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য।

যেসব পরিবার এই সুবিধা পাবে না

সরকার জানিয়েছে, কিছু নির্দিষ্ট আর্থিক অবস্থার পরিবার এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না। যেমন—

সরকারি বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তি

পেনশনভোগী পরিবার

বড় ব্যবসা বা বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী

গাড়ি, এসি বা বিলাসবহুল সম্পদ থাকা

পাঁচ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র থাকা পরিবার

মোবাইল বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ভাতা

মন্ত্রী জানান, ফ্যামিলি কার্ডের অর্থ জি-টু-পি (Government to Person) পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। এতে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত