ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিতে ৪ বিলিয়ন ঋণ ইউনূস সরকারের

২০২৬ মার্চ ০৯ ০৯:৪২:১৩

সরকারি কর্মচারীদের বেতন দিতে ৪ বিলিয়ন ঋণ ইউনূস সরকারের

সরকারি ব্যয় মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতার একটি নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান সরকারের প্রথম বছরেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় মেটাতে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশ থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে।

এ তথ্য উঠে এসেছে Economic Relations Division (ইআরডি)-এর এক প্রতিবেদনে। একটি বেসরকারি টেলিভিশনে প্রচারিত রিপোর্টে বলা হয়, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে সরকার মোট প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক অর্থ অর্থাৎ ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে পরিচালন খাতে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাধারণত বিদেশি ঋণ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া হয়। কিন্তু সেই অর্থ যদি সরকারি বেতন-ভাতা বা দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তা অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য ভালো বার্তা নয়।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ প্রায় ১৪.৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার কাছ থেকে। এর মধ্যে বড় একটি অংশ বর্তমান সরকারের সময়েই নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ M. Masrur Reaz, যিনি Policy Exchange Bangladesh-এর চেয়ারম্যান, বলেন—সরকার উন্নয়ন কর্মসূচিতে তুলনামূলকভাবে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। ফলে সেই সময় আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন World Bank এবং Asian Development Bank-এর সঙ্গে বাজেট সহায়তা চুক্তির মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, ওই অর্থবছরে প্রায় চার থেকে পাঁচ বিলিয়ন ডলার ছাড় হয়েছে বাজেট সহায়তা হিসেবে। এর একটি বড় কারণ ছিল দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখা।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের মোট বিদেশি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ১৯ শতাংশ। আপাতদৃষ্টিতে এই হার ঝুঁকিপূর্ণ না হলেও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ভবিষ্যতে ঋণ ব্যবস্থাপনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঋণের অর্থ যদি সঠিকভাবে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ না করা হয়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়তে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত