ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জ্বালানি বিক্রিতে নতুন নিয়ম: মোটরসাইকেলে একবারে যত লিটার তেল পাবে

২০২৬ মার্চ ০৬ ১৯:২৮:৪৮

জ্বালানি বিক্রিতে নতুন নিয়ম: মোটরসাইকেলে একবারে যত লিটার তেল পাবে

আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব মোকাবিলায় বাংলাদেশে জ্বালানি তেল বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে সরকার। বিশেষ করে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, এখন থেকে ফিলিং স্টেশন থেকে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি জ্বালানি কিনতে পারবে না। শুক্রবার (৬ মার্চ) বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

কোন গাড়ি কত লিটার জ্বালানি নিতে পারবে

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি কেনার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—

মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ২ লিটার

প্রাইভেটকার: সর্বোচ্চ ১০ লিটার

জিপ ও মাইক্রোবাস: সর্বোচ্চ ২৫ লিটার

পিকআপ ও লোকাল বাস: সর্বোচ্চ ৮০ লিটার

দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও কন্টেইনার ট্রাক: সর্বোচ্চ ২২০ লিটার ডিজেল

এই সীমা অতিক্রম করে কোনো যানবাহনকে জ্বালানি সরবরাহ করা যাবে না।

কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো

সরকার জানিয়েছে, বাংলাদেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকট, যুদ্ধ পরিস্থিতি বা পরিবহন সমস্যার কারণে কখনও কখনও জ্বালানি আমদানিতে বিলম্ব বা বাধা তৈরি হয়।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেক ভোক্তার মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

কিছু ক্ষেত্রে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন বলেও সরকারের নজরে এসেছে।

জ্বালানি নেওয়ার সময় নতুন নিয়ম

জ্বালানি সংগ্রহের ক্ষেত্রে কয়েকটি বাধ্যতামূলক নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে—

১. ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি নেওয়ার সময় অবশ্যই ক্রয় রশিদ বা বিল দিতে হবে।২. পরবর্তীবার জ্বালানি নেওয়ার সময় পূর্বের ক্রয় রশিদের মূল কপি জমা দিতে হবে।৩. ডিলাররা রশিদ যাচাই করে নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করবে।৪. ফিলিং স্টেশনগুলোকে তাদের মজুদ ও বিক্রয়ের তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে জানাতে হবে।৫. তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের সরবরাহ দেওয়ার আগে তাদের বিক্রয় ও মজুদ তথ্য যাচাই করবে।

অতিরিক্ত দাম নিলে শাস্তি

সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে জ্বালানি বিক্রি করা আইনত অপরাধ। বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কোনো সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি।

প্রতি মাসের শুরুতে সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করে। তাই সংকটের অজুহাতে বেশি দাম নেওয়া হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে

বিপিসি জানিয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নিয়মিত আমদানি কার্যক্রম চালু রয়েছে। বিদেশ থেকে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জ্বালানির চালান দেশে আসছে এবং ডিপোগুলোতে রেলওয়ে ওয়াগন ও ট্যাংকারের মাধ্যমে সারাদেশে পাঠানো হচ্ছে।

সরকার আশা করছে, অল্প সময়ের মধ্যেই দেশে পর্যাপ্ত বাফার স্টক বা মজুদ তৈরি হবে এবং জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল থাকবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত