ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা: হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করল ইরান

২০২৬ মার্চ ০১ ০১:২১:২৩

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা: হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণা করল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। বিশ্বের প্রধান জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি এই সরু নৌপথ—যা Strait of Hormuz—বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক তেল-বাজারে বড় ধাক্কার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরানের ঘোষণা: ‘হরমুজ প্রণালী দিয়ে আর কোনো জাহাজ নয়’

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নৌ–মিশন এসপাইডেসের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড (আইআরজিসি) ঘোষণা করেছে—“হরমুজ দিয়ে কোনো জাহাজ চলতে দেওয়া হবে না।”এ ঘোষণার পর অঞ্চলজুড়ে উচ্চমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

কেন হরমুজ প্রণালী এত গুরুত্বপূর্ণ?

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০% দৈনিক এই প্রণালী দিয়েই যায়।প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি এই রুট দিয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে।

এই পথটি মূলত—

সৌদি আরব,

ইরান,

ইরাক,

United Arab Emirates

—এসব প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশের রপ্তানির একমাত্র প্রধান সমুদ্র–পথ।

প্রণালী বন্ধ হলে বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে—

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হঠাৎ ব্যাপক বৃদ্ধি পেতে পারে

ইউরোপ, এশিয়া সহ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় সংকট দেখা দিতে পারে

তেল–নির্ভর অর্থনীতিগুলো তীব্র চাপের মুখে পড়বে

শিপিং ও বাণিজ্যে ব্যাপক ব্যাঘাত ঘটবে

হরমুজ প্রণালীকে এর গুরুত্বের কারণে অনেকে বলে থাকেন—“বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের গলা।”

উপসাগরীয় উত্তেজনার নতুন সূচনা

ইরান এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাম্প্রতিক ইসরায়েল–যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ও হামলার প্রতিক্রিয়ায়। তেহরান বলছে—নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না।

এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং সামুদ্রিক চলাচল বন্ধ হওয়ায় বিকল্প রুট নিয়ে জরুরি আলোচনায় নেমেছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত