ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাংলাদেশে স্বর্ণ কেনার সঠিক সময়

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৫ ১৫:০৭:৪৮

বাংলাদেশে স্বর্ণ কেনার সঠিক সময়

আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দর বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ ও ভারতের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও নতুন উচ্চতা ছুঁয়েছে। সোমবার ও মঙ্গলবারের তথ্য অনুযায়ী ভরি প্রতি স্বর্ণের দাম বাড়তে থাকায় ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে স্বর্ণ কেনার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় কোনটি—এ নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা।

কখন স্বর্ণ কেনা সবচেয়ে উপযোগী?বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নির্দিষ্ট সময় স্বর্ণ কেনার জন্য তুলনামূলকভাবে উপযুক্ত—

১. বাজার স্থিতিশীল থাকলেস্বর্ণের দাম যখন টানা কয়েক দিন ধরে স্থির থাকে, তখন বিনিয়োগ করা নিরাপদ। হঠাৎ বাড়তি দামে ঝুঁকি বাড়ে।

২. বিয়ের মৌসুমের আগেবাংলাদেশে বিয়ের মৌসুমে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে দামও বাড়ে। তাই মৌসুম শুরুর আগেই স্বর্ণ কেনা আর্থিকভাবে লাভজনক।

৩. রমজান ও ঈদের আগেরমজান ও ঈদের সময় স্বর্ণের ক্রয়চাহিদা বেড়ে যায়। দাম বৃদ্ধির আগেই স্বর্ণ কিনে রাখলে খরচ কম হয়।

৪. আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলেবিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমলে বাংলাদেশেও সাধারণত কিছুদিনের মধ্যে দাম কমে। আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করে কিনলে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে।

বাংলাদেশে স্বর্ণে বিনিয়োগের জনপ্রিয় পদ্ধতি• সোনার বার ও কয়েনব্যাংক বা অনুমোদিত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনলে বিশুদ্ধতা নিশ্চিত থাকে।

• গহনাবাংলাদেশের সংস্কৃতিতে অলংকার হিসেবে স্বর্ণের গুরুত্ব ব্যাপক। বিয়েসহ নানা অনুষ্ঠানে গয়নার চাহিদা বেশি।

• ডিজিটাল স্বর্ণদেশে এখনো তেমন জনপ্রিয় না হলেও ভবিষ্যতে এটি নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হতে পারে।

বাংলাদেশে স্বর্ণ কেনার নির্ভরযোগ্য স্থানগুলোঢাকা: গুলিস্তান, বসুন্ধরা সিটি, নিউ মার্কেটচট্টগ্রাম: আগ্রাবাদ, রিয়াজউদ্দিন বাজারসিলেট: লালাবাজার, মিরাবাজারখুলনা: নিউ মার্কেট, শিববাড়ি

বিশেষজ্ঞদের মতে, BSTI হলমার্কযুক্ত দোকান থেকেই কেনা সবচেয়ে নিরাপদ।

বাংলাদেশে স্বর্ণ বিক্রির সেরা উপায়অনুমোদিত দোকানে বিক্রি করলে সঠিক মূল্য পাওয়া যায়।

BSTI হলমার্কযুক্ত স্বর্ণের দাম তুলনামূলক বেশি মেলে।

বাজারে দাম বাড়ার সময় বিক্রি করলে মুনাফা পাওয়া সহজ।

কিছু ব্যাংকও স্বর্ণ ক্রয় করে—এটি নিরাপদ বিকল্প।

পশ্চিমবঙ্গে স্বর্ণ কেনার জনপ্রিয় স্থানকলকাতা: বো বেন বাজার, হাতিবাগানদুর্গাপুর: মিশন বাজারশিলিগুড়ি: হংকং মার্কেট

বাংলাদেশ ও ভারতের স্বর্ণবাজার নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসাবাংলাদেশে স্বর্ণের দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়?স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। আন্তর্জাতিক বাজার, ডলার রেট, আমদানি শুল্ক এবং চাহিদার ওপর দাম ওঠানামা করে।

ভারতে স্বর্ণের দাম কে নির্ধারণ করে?ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (IBJA) প্রতিদিন স্বর্ণের দাম ঠিক করে।

২৪ ক্যারেট ও ২২ ক্যারেট স্বর্ণের পার্থক্য কী?২৪ ক্যারেট: ৯৯.৯৯% খাঁটি, গহনায় কম ব্যবহৃত—কারণ এটি নরম।

২২ ক্যারেট: ৯১.৬% খাঁটি, গহনা তৈরিতে উপযোগী ও টেকসই।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত