ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কে বসবেন সভাপতির আসনে? নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ২৩ ১৭:৪০:৩১

কে বসবেন সভাপতির আসনে? নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে ঘিরে বাড়ছে জল্পনা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ। নতুন সংসদ গঠনের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—অধিবেশনের প্রথম দিনে সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব কার হাতে থাকবে?

সংবিধান অনুযায়ী সময়মতো অধিবেশন আহ্বাননির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম অধিবেশন আহ্বানের বাধ্যবাধকতা থাকায় ১২ মার্চই অধিবেশন ডাকা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ভিত্তিতে অধিবেশন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

প্রথম দিনেই স্পিকার–ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনঅধিবেশনের প্রথম দিন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন হবে। পাশাপাশি সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব উপস্থাপন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলো সংসদে তোলা হবে।

সমস্যা: কে করবেন প্রথম দিনের সভাপতিত্ব?দ্বাদশ সংসদের স্পিকার পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার কারাগারে থাকায় প্রচলিত নিয়মে অধিবেশন শুরু করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।সংবিধান অনুযায়ী সাধারণত স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠক পরিচালনা করেন। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মনোনীত একজন সংসদ সদস্যই সভাপতিত্ব করতে পারেন।

সংসদ সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে—পূর্বের ১৯৭৩ সালের মতো এবারও একাধিকবার নির্বাচিত, জ্যেষ্ঠ কোনো সংসদ সদস্যকে সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

বিরোধী দলের অবস্থানবিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের ঘনিষ্ঠরা জানান, প্রথম অধিবেশনে সিনিয়র সদস্যকে সভাপতিত্বে বসানোর নজির রয়েছে। তাই সরকারি দল উদ্যোগ নিলে তারা সহযোগিতা করবে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও পরবর্তী কার্যসূচিপ্রথম বৈঠকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ভাষণ দেবেন। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত এই ভাষণের পর অধিবেশন মুলতবি করা হবে। পরে ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা চলবে, যেখানে সরকার, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা বক্তব্য দেবেন।

স্পিকার নির্বাচনের পর ২০ মিনিটের বিরতি দিয়ে নতুন স্পিকারের শপথ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তিনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনসহ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

নতুন সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দল২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি, আর জামায়াত পেয়েছে ৬৮টি আসন। পাশাপাশি এনসিপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ কয়েকটি দল সংসদে রয়েছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে—দীর্ঘদিন পর একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের উপস্থিতি থাকায় অধিবেশন হবে প্রাণবন্ত, এবং জুলাই সনদসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জোরালো আলোচনা হতে পারে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত