ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কখন ও কীভাবে হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন?—জানুন সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১১:৩৩:২৮

কখন ও কীভাবে হবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন?—জানুন সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলোর একটি—কবে হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং কিভাবে সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?

বর্তমানে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে রয়েছেনমো. সাহাবুদ্দিন, যিনি ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নেন। তার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মে তার মেয়াদ শেষ না হলে বা তিনি পদত্যাগ না করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রপতি পদ কীভাবে শূন্য হয়?বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী তিনটি কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হতে পারে—

1 মেয়াদ শেষ হওয়া2 পদত্যাগ (স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিলে কার্যকর)3 অভিশংসন (সংসদের মাধ্যমে)

সংবিধান বিশেষজ্ঞকাজী জাহেদ ইকবাল জানিয়েছেন—রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পরেই নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে নতুন সংসদ।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গণমাধ্যমে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন যে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চান, কারণ অন্তর্বর্তী সরকার আমলে তিনি নিজেকে ‘অপমানিত’ মনে করেছেন। ফলে তার পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নিয়ম—সংবিধান যা বলেবাংলাদেশের সংবিধানেরবাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনরাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করে।

১. কারা ভোট দেন?রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন শুধু সংসদ সদস্যদের ভোটে। জনগণ সরাসরি ভোট দেয় না।

২. প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতাবয়স ৩৫ বছর বা তার বেশি

সংসদ সদস্য পদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য হতে হবে

৩. মনোনয়ন পদ্ধতিরাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হতে হলে—

একজন প্রস্তাবক

একজন সমর্থকদুটি এমপি স্বাক্ষরই যথেষ্ট।

৪. একক প্রার্থী হলেএকজনই প্রার্থী থাকলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন নেই। তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত হন।

৫. তফসিল ঘোষণাস্পিকারের সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে।যদি সংসদ অধিবেশনে না থাকে, কমিশন স্পিকারকে নোটিশ দিয়ে অধিবেশন ডাকতে বলতে পারে।

৬. কখন নির্বাচন হবে?সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী—

মেয়াদ শেষ হলে: মেয়াদ শেষের ৬০–৯০ দিন আগে নির্বাচন

পদ শূন্য হলে: যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন আয়োজন

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট—কী হতে পারে সামনে?বিশ্লেষকদের মতে—

নতুন সংসদ ও নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রশ্ন সামনে আসবে।

যদি মো. সাহাবুদ্দিন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তবে অভিশংসনের প্রয়োজন হবে না।

অনেকেই মনে করছেন—বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তন আনতে পারে।

বর্তমান মেয়াদ ২০২৮ পর্যন্ত থাকায় স্বাভাবিকভাবে নির্বাচন এখনই হওয়ার কথা নয়, তবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে বিষয়টি দ্রুত পরিবর্তনও হতে পারে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য—আলোচনায় কেন?বিদ্যমান সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে মূলত আলংকারিক পদ বলা হয়, কারণ প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শেই সব সিদ্ধান্তে স্বাক্ষর করতে হয়।

তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনায় ‘জুলাই সনদ’-এর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কিছু ক্ষেত্রে বাড়ানোর প্রস্তাব এসেছে—

মানবাধিকার কমিশন

তথ্য কমিশন

প্রেস কাউন্সিল

আইন কমিশন

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনএসব পদ প্রধানমন্ত্রী নয়, রাষ্ট্রপতি সরাসরি নিয়োগ দিতে পারেন—এমন সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন করতে হবে, যা এখনো সময়সাপেক্ষ।

সংক্ষেপে—রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কবে? মেয়াদ শেষ: এপ্রিল ২০২৮ এর আগে নির্বাচন হবে না, যদি না—

রাষ্ট্রপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন

অথবা সংসদ তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে অপসারণ করে

বর্তমান পরিস্থিতিতে বিশ্লেষকদের মতে—রাষ্ট্রপতির পদত্যাগই আলোচিত সম্ভাব্য পথ।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত