ঢাকা, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

নির্বাচিত ৭০ আসনের ২১.৪%–এ জাল ভোটের তথ্য পেয়েছে টিআইবি

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৮ ১০:১৫:১৪

নির্বাচিত ৭০ আসনের ২১.৪%–এ জাল ভোটের তথ্য পেয়েছে টিআইবি

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাল ভোট নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।সংগঠনটির সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নমুনাভিত্তিকভাবে নির্বাচিত ৭০টি আসনের মধ্যে ২১.৪ শতাংশ আসনে অন্তত একটি বা তার বেশি জাল ভোটের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয় রাজধানীর মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে। সেখানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালকড. ইফতেখারুজ্জামান।

জাল ভোট—কী বলছে টিআইবির পর্যবেক্ষণ?সংবাদ সম্মেলনে ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান—

টিআইবির মাঠ-গবেষণার জন্য দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৭০টি আসন বাছাই করা হয়।

এই আসনগুলোর ২১.৪% আসনে জাল ভোট পড়ার ঘটনা পাওয়া গেছে।

তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন—

“এটি কোনোভাবেই বোঝায় না যে জাতীয়ভাবে ২১ শতাংশ জাল ভোট পড়েছে। নমুনার বাইরে পুরো দেশে একই হার প্রযোজ্য—এমন ব্যাখ্যা সঠিক নয়।”

সংসদ সদস্যদের ঋণের পরিমাণ সর্বোচ্চটিআইবির প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রায় অর্ধেক এমপি ঋণগ্রস্ত।

তাদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা, যা গত চারটি সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ।

রাজনৈতিক দলভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়—

বিএনপি-র এমপিদের মধ্যে ৬২%–এর ঋণ রয়েছে।বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)

জামায়াতে ইসলামী–র ক্ষেত্রে এ হার ১৬%।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

সবচেয়ে বেশি ব্যবসায়ী পেশার এমপিপ্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে—

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ী পেশার প্রতিনিধিই সর্বোচ্চ, প্রায় ৬০%।

দ্বাদশ সংসদের তুলনায় এবার ব্যবসায়ী এমপির সংখ্যা ৫% কম হলেওনবম সংসদের তুলনায় ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে।

নির্বাচনী অনিয়ম ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থতাটিআইবির প্রতিবেদনে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে—

নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষত প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একটি অংশসুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখতেরাজনৈতিক দলগুলোর অনীহা ও আচরণবিধি লঙ্ঘন সুস্পষ্টভাবে দেখা গেছে।

প্রার্থীরা নির্ধারিত নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা অতিক্রমের প্রবণতা অব্যাহত রেখেছে।

আচরণবিধি মানার অঙ্গীকার থাকলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো তা রক্ষা করতে পারেনি।

সার্বিক বার্তাটিআইবি বলছে—জাল ভোট, আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, এবং রাজনৈতিক দলের দায়িত্বহীনতা—এসব মিলিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মান ও স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।সংগঠনটির মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে হলে নির্বাচনী অনিয়ম কমানো এবং স্বচ্ছতা বাড়ানো জরুরি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত