ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

এনসিপির আসন কমার কারন জানালেন : বিশ্লেষকেরা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৫ ১৫:৫৭:৫৮

এনসিপির আসন কমার কারন জানালেন : বিশ্লেষকেরা

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী প্রথম জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বিএনপি। আর অভ্যুত্থানের নেতৃত্বে থাকা তরুণদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথমবারেই ছয়টি আসন দখল করেছে। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়াই এনসিপির প্রত্যাশিত আসন কমার প্রধান কারণ।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির (জাপা) পরিণতি আরও করুণ—ফ্যাসিবাদী শাসনের “সহযোগী দল” হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় দলটি ২০০ আসনে লড়েও একটি আসনও জিততে পারেনি। দলটির চেয়ারম্যান জিএম কাদের নিজেও তাঁর আসনে তৃতীয় হয়েছেন।

এনসিপির সাফল্য—তবু প্রত্যাশার কম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় গঠিত এনসিপি ৩০টি আসনে লড়াই করে জয় পেয়েছে ৬টিতে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মাহবুবুর রহমান মনে করেন—

“জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ায় এনসিপি অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা বহু তরুণ ভোট হারিয়েছে। এককভাবে লড়লে আসন আরও বেশি আসত।”

জাতীয় পার্টির ভরাডুবি—‘ফ্যাসিবাদের লেজুড়বৃত্তি’

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক সাহাবুল হক বলেন—

“ফ্যাসিস্ট সরকারের ছায়াতলে থেকে জাতীয় পার্টি রাজনীতি করেছে। তাদের সংগঠন ছিল দুর্বল, জনপ্রিয়তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।”

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের ডিরেক্টর এম জসিম উদ্দিন মন্তব্য করেন—

“তাবেদারি করে কোনো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে টিকে থাকতে পারে না—জাতীয় পার্টির ভবিষ্যৎ তাই প্রায় নিশ্চিহ্ন।”

আওয়ামী লীগ থাকলেও ফল অপরিবর্তিত হতো—বিশ্লেষকদের মত

বিশ্লেষকেরা বলছেন, আওয়ামী লীগ ভোটে থাকলেও ফ্যাসিবাদের দায় তাদের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকত।তাই ফলাফল খুব ভিন্ন হতো না।

রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতা: অধিকার সচেতন ভোটার

অভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভোটাররা আগের চেয়ে বেশি সচেতন, রাজনৈতিক চাপের বাইরে।তাই দলগুলোকে আরও গণতান্ত্রিক চর্চা, স্বচ্ছতা এবং আদর্শভিত্তিক রাজনীতি করতে হবে—বিশ্লেষকদের মতে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত