ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২৯৭ জন এমপির গেজেট প্রকাশ

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১৩:১৩:৩০

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ২৯৭ জন এমপির গেজেট প্রকাশ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের নামের গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এই গেজেটে আইন অনুযায়ী প্রত্যেক নির্বাচিত এমপির ব্যক্তিগত তথ্য ও নির্বাচনি আসন উল্লেখ করা হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২–এর অনুচ্ছেদ ৩৯(৪) অনুসারে গেজেটটি প্রকাশ করা হয়েছে।

চলতি সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোট হওয়ার কথা থাকলেও একটি আসনে প্রার্থীর মৃত্যু এবং একটি আসনে আইনি জটিলতার কারণে শেষে মোট ২৯৭টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করা হয়। গেজেটে জানানো হয় যে, এবার সর্বাধিক আসনে জয় পেয়েছে বিএনপি, মোট ২০৯টি।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন, জাতীয় নাগরিক পার্টি জয়ী হয়েছে ৬টি আসনে। পাশাপাশি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১টি, গণঅধিকার পরিষদ ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ১টি এবং গণসংহতি আন্দোলন একটি আসনে বিজয় লাভ করেছে। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট ৭টি আসনে নির্বাচিত হয়েছেন।

নির্বাচনে অংশ নেওয়া ভোটারদের সামগ্রিক ভোটদানের হার ৫৯.৪৪ শতাংশ, আর গণভোটে অংশগ্রহণের হার ছিল ৬০.২৬ শতাংশ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখের বেশি এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখের বেশি। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজারের বেশি, যেখানে পুরুষ, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গ মিলিয়ে বৃহৎ ভোটার তালিকা তৈরি হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—প্রবাসী বাংলাদেশিরা এবারই প্রথম পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়।

এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন প্রায় দুই হাজার প্রার্থী। তাদের মধ্যে আড়াই শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ৫১টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। দলভিত্তিক অংশগ্রহণের হিসাব অনুযায়ী, সর্বাধিক প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি, মোট ২৯১ জন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর ২২৯ জন এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি–এর ৩২ জন প্রার্থী প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন।

নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ গেজেট প্রকাশের মধ্য দিয়ে নতুন সংসদের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হলো। ফলাফল ও অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান বলছে—জনগণের ভোট ও গণভোট—দুই ক্ষেত্রেই এবার ব্যাপক অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাকে আরও সুসংহত করবে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত