ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

কুড়িগ্রাম-২ আসনে ফল প্রত্যাখ্যান, পুনর্গণনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৪ ১২:৩২:২৪

কুড়িগ্রাম-২ আসনে ফল প্রত্যাখ্যান, পুনর্গণনার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

কুড়িগ্রাম-২ (সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী) আসনের নির্বাচনী ফলাফল বাতিলের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ। নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনি শুক্রবার রাতে শহরের হাসপাতালপাড়ায় নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার জন্য জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে ইতোমধ্যে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা।

জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র প্রার্থী আতিকুর রহমান (শাপলা কলি প্রতীক) পেয়েছেন ১,৮০,৫২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কায়কোবাদ (ধানের শীষ প্রতীক) পেয়েছেন ১,৭১,৪০৫ ভোট। ২০৫টি কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৬,০৪,৭৩৬ জন; ভোটগ্রহণের হার ৬৬.৭৪ শতাংশ।

অভিযোগ কী?

সংবাদ সম্মেলনে কায়কোবাদ অভিযোগ করেন—

কুড়িগ্রাম সদরের পাঁচগাছি, যাত্রাপুর ও ভোগডাঙ্গাসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের ফলাফলের শিটে তার পোলিং এজেন্টদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়নি।

মাঠের প্রাপ্ত ভোট ও ঘোষিত ফলাফলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অমিল রয়েছে।

ফুলবাড়ী উপজেলার একটি কেন্দ্রে গণনার আগে ১১০ বান্ডিল ব্যালট পেপার থাকলেও গণনার সময় পাওয়া যায় মাত্র ১০০টি।

ধানের শীষ প্রতীকের ভোট ইচ্ছাকৃতভাবে নষ্ট ভোট হিসেবে দেখানো হয়েছে।

পুরো জেলায় বাতিল ভোট দেখানো হয়েছে প্রায় ৯,৫০০টি, যার বেশিরভাগই বিএনপির ভোট বলে দাবি তার।

তার বক্তব্য, “যেসব কেন্দ্রে শাপলা কলি প্রতীকের ভোট বেশি, সেখানে প্রায় কোনো ভোটই বাতিল হয়নি। কিন্তু যেখানে বিএনপির ভোট বেশি—সেখানেই বেশি বাতিল দেখানো হয়েছে।”

এ কারণেই তিনি মনে করেন, পুনর্গণনা হলে ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।

নির্বাচনী এজেন্টের অভিযোগ

বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা অভিযোগ করেন—

বিকেল তিনটার পর থেকে সেনাবাহিনী তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়।

এতে আহত হন ৯ জন নেতাকর্মী, যারা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

হামলার কারণে বহু কেন্দ্রে তাদের এজেন্টরা অবস্থান করতে পারেননি।

এদিকে ফল ঘোষণার রাতে দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে নামে।

প্রশাসনের বক্তব্য

কুড়িগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের নির্বাচন নিয়ন্ত্রণকক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক জানান—

বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে বিএনপির জেলা আহ্বায়ক **হাসিবুর রহমান**সহ কয়েক শত নেতাকর্মী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে অভিযোগ উত্থাপন করেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁদের জানানো হয়—

ফলাফলের বিষয়ে আপত্তি থাকলে আইনগতভাবে আপিল করা যাবে,

তবে জেলা পর্যায়ে ফল পরিবর্তন বা পুনর্গণনার সুযোগ নেই,

পুনর্গণনার এখতিয়ার শুধুমাত্র আদালতের।

তিনি আরও জানান— বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়নি।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত