ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: হেরে গেলেন যেসব হেভিওয়েট নেতা

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১৩ ১৮:২১:১২

জাতীয় সংসদ নির্বাচন: হেরে গেলেন যেসব হেভিওয়েট নেতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। বহু আলোচিত, প্রভাবশালী ও হেভিওয়েট নেতা এবার কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাননি। কোথাও ছিল রুদ্ধশ্বাস লড়াই, আবার কোথাও ব্যবধান ছিল বিস্ময়করভাবে বড়। পুরো দেশজুড়ে ভোটারদের রায় এবার কিছু জায়গায় অভিজ্ঞতার চেয়ে জোটগত সমীকরণে বেশি প্রভাব ফেলেছে বলেই বিশ্লেষকদের মত।

হেভিওয়েটদের পরাজয়ের চিত্র১. মিয়া গোলাম পরওয়ার (জামায়াত, খুলনা-৫)

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছে অল্প ব্যবধানে। বিএনপির মোহাম্মদ আলী আসগার লবি মাত্র ২,৭০২ ভোট বেশি পেয়ে জয় ছিনিয়ে নেন।

২. হামিদুর রহমান আযাদ (জামায়াত, কক্সবাজার-২)

জামায়াতের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতা হামিদুর রহমান আযাদও জয়ী হতে পারেননি। তিনি পেয়েছেন ৮৯,৬৩৪ ভোট, যেখানে বিএনপির আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ পেয়েছেন ১,২৫,২৬২ ভোট।

৩. মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম (ইসলামী আন্দোলন)

দুই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও কোথাও জয়ের মুখ দেখেননি। বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬—দুটিতেই বিএনপির প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়ে তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে এই আলোচিত ধর্মীয় নেতাকে।

৪. মামুনুল হক (খেলাফত মজলিস, ঢাকা-১৩)

ঢাকা-১৩ ছিল সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ আসনগুলোর একটি। শেষ পর্যন্ত বিএনপির ববি হাজ্জাজ ৮৬,৬৯৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন, আর মামুনুল হক পান ৮৩,৮৫১ ভোট। মাত্র কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধান হাড্ডাহাড্ডি লড়াইকে আরও ঘনিষ্ঠ করে তোলে।

৫. সারজিস আলম (এনসিপি, পঞ্চগড়-১)

এনসিপি-র অত্যন্ত আলোচিত নেতা সারজিস আলম বিএনপির নওশাদ জমিরের কাছে ৮,৩০৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

অন্যান্য আলোচিত প্রার্থীদের পারফরম্যান্সজিএম কাদের (জাতীয় পার্টি, রংপুর-৩)

লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোটে নেমে জামায়াত ও বিএনপির উভয় প্রার্থীর পিছনে পড়ে যান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। এ আসনে জামায়াতের মো. মাহবুবুর রহমান বিজয়ী হন।

মাহমুদুর রহমান মান্না (নাগরিক ঐক্য, বগুড়া-২)

ব্যাপক আলোচনার পরও ফল আশানুরূপ নয়। তিনি পেয়েছেন মাত্র ৩,৪২৬ ভোট, ফলে হারিয়েছেন জামানতও। বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মীর শাহে আলম।

নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ও ডা. তাসনিম জারা (ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯)

ঢাকা-৮–এ এনসিপির নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী বিএনপির মির্জা আব্বাসের কাছে হেরে যান। ঢাকা-৯–এ এনসিপির জাবেদ মিয়া ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা পরাজিত হন বিএনপির হাবিবুর রশিদের কাছে।

রাশেদ খান (গণঅধিকার পরিষদ, ঝিনাইদহ-৪)

জামায়াতের আবু তালিবের কাছে পরাজিত হয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন আলোচিত ছাত্রনেতা রাশেদ খান।

যে আসনগুলোতে পাল্টে গেছে দীর্ঘদিনের সমীকরণঢাকা-১৬

এবার বড় চমক। বিএনপির আমিনুল হককে পরাজিত করে জয় পান জামায়াতের আব্দুল বাতেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩

বিএনপির প্রভাবশালী নেতা হারুনুর রশীদ হারুনকে হারিয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের নূরুল ইসলাম বুলবুল।

নরসিংদী-২

এখানে অবশ্য চিত্র ভিন্ন। বিএনপির অভিজ্ঞ নেতা আব্দুল মঈন খান তার আসন ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

সার্বিক বিশ্লেষণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলে দেখা যায়—ভোটাররা অনেক জায়গায় অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের গুরুত্ব দিলেও কিছু ক্ষেত্রে ব্যক্তি জনপ্রিয়তার চেয়ে দলভিত্তিক জোটগত সমীকরণ বড় ভূমিকা রেখেছে। হেভিওয়েটদের পরাজয় তাই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা জন্ম দিয়েছে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত