ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

রাতের আঁধারে ‘ভয়ঙ্কর’ ওরা ১১ জন

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ১২ ০০:০৯:২৫

রাতের আঁধারে ‘ভয়ঙ্কর’ ওরা ১১ জন

রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে সক্রিয় ছিল ১১ সদস্যের একটি সংগঠিত ছিনতাইকারী দল। দিনের বেলা তারা সাধারণ পেশার মানুষ—কেউ কাপড় ব্যবসায়ী, কেউ মোবাইল যন্ত্রাংশ বিক্রেতা, কেউ পিকআপ বা রিকশা চালক, আবার কেউ চায়ের দোকান চালাতেন। কিন্তু অন্ধকার নেমে এলে তাদের চেহারা বদলে যেত, তারা পরিণত হতো ভয়ঙ্কর ছিনতাইকারীতে।

দীর্ঘ নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার পর অবশেষে র‍্যাব-১ এই চক্রের ১১ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাতে অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয় বলে জানান র‍্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

যাদের আটক করা হলো

গ্রেফতাররা হলেন—মো. আলমগীর (৫০), মো. আব্দুল হালিম (৩০), মো. খোকন মিয়া (৫০), মো. অরুণ মিয়া (৩৫), মো. সেন্টু মিয়া (৩৫), মো. আলমগীর (২০), মো. রফিক (২৮), মো. শাকিল (২০), মো. নুর আলম (২৪), মো. বাদশা (১৯) ও মো. বিশাল খান (১৯)।

অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—২টি ধারালো ছোরা, ২টি চাপাতি, ছিনতাইকৃত একটি ট্যাব, ১২টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১৬ হাজার ৯১০ টাকা।

চক্রের কাজের ধরন

র‍্যাবের তথ্যমতে,

দলটি দীর্ঘদিন ধরে টঙ্গী রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের অন্ধকার এবং ফাঁকা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীদের টার্গেট করত।

অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল, টাকা এবং মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিত।

চক্রটির হোতা হলেন আলমগীর, যার টঙ্গীতে কাপড়ের দোকান আছে। ছিনতাইকৃত পণ্য সে বিক্রি করে দিত বিভিন্ন স্থানে।

চক্রের সদস্যদের পরিচয় দিন-রাতের পার্থক্য

র‍্যাব জানায়—

আব্দুল হালিম মোবাইল যন্ত্রাংশ বিক্রি করলেও রাতে যাত্রীদের টার্গেট করতেন।

খোকন মিয়া পিকআপ চালক, আর অরুণ মিয়া কাঠ ব্যবসার পাশাপাশি চক্রে যুক্ত ছিলেন।

অন্য সদস্যদের মধ্যে কেউ ইলেকট্রিশিয়ান, কেউ দোকান কর্মী, কেউ হেলপার—তাদের সবারই ছিল আলাদা আলাদা পেশা।কিন্তু রাত হলেই তারা একজোট হয়ে এলাকায় ছিনতাই করত।

গ্রেফতারের পর তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানায় র‍্যাব।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত