ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী—কে কত আসন পাবে?

২০২৬ ফেব্রুয়ারি ০৯ ১৯:৫৫:০৩

নির্বাচন নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী—কে কত আসন পাবে?

সিনিয়র সাংবাদিক মাসুদ কামাল জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একেবারে দোরগোড়ায়। নির্বাচনের ঘনিষ্ঠ সময়ের সাথে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কে কত আসনে জয়ী হতে পারে—এই নিয়ে কৌতূহল ও আলোচনা বাড়ছে।

তিনি বলেন, শেষ মুহূর্তে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা এবং জেলা-ভিত্তিক জরিপ থেকে একটি সম্ভাব্য নির্বাচনী চিত্র পাওয়া গেছে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে একটি প্রাথমিক পূর্বাভাস প্রকাশ করেছেন তিনি।

সম্ভাব্য আসন বণ্টন

মোট ৩০০ আসনের মধ্যে এবারের নির্বাচনে ভোট হচ্ছে ২৯৮টি আসনে। সরকারি তথ্য ও জাতীয় দৈনিকের জেলা-ভিত্তিক জরিপের ভিত্তিতে সম্ভাব্য আসন বণ্টন নিম্নরূপ:

বিএনপি (একক, জোট ছাড়া): প্রায় ১৫০টি আসন

জামায়াত-জোট: প্রায় ৭০টি আসন

স্বতন্ত্র প্রার্থী: প্রায় ৫৫টি আসন

জাতীয় পার্টি: ১০–১২টি আসন

ইসলামী আন্দোলন: ৭–৮টি আসন

অন্যান্য ছোট দল: প্রায় ৫টি আসন

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের তুলনামূলক সাফল্য একটি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা শক্ত অবস্থানে থাকায় স্বতন্ত্রদের সংখ্যা বেশি দেখানো হয়েছে।

নির্ধারিত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক আসন

জাতীয় দৈনিকের জরিপ অনুযায়ী, আসনগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

নিশ্চিত আসন (প্রতিদ্বন্দ্বিতা কম):

বিএনপি: ৮৮টি

জামায়াত: ৫১টি

স্বতন্ত্র প্রার্থী: ১০০টি

এনসিপি: ২টি

জাতীয় পার্টি: ৪টি

অন্যান্য দল: ৪টি

কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা (১৩২টি আসন)এই আসনগুলোর ফলাফল শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের চূড়ান্ত চিত্র নির্ধারণ করবে।

বৃহৎ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে বিএনপির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি। কারণ কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার ১৩২টি আসনের মধ্যে যদি বিএনপি অন্তত ৬২টি জিততে পারে, তবে তাদের মোট আসন দাঁড়াবে প্রায় ১৫০। অন্যদিকে, জামায়াতকে সরকার গঠনের জন্য এই ১৩২টি আসনের মধ্যে প্রায় ৯৯টি জিতে যেতে হবে, যা বাস্তবতায় কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন বদলেছে হিসাব?

বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনী সময় যত এগিয়েছে, রাজনৈতিক বাস্তবতা তত পরিবর্তিত হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার কুশাসন ও জনদুর্ভোগ জনগণের মধ্যে তুলনার প্রবণতা তৈরি করেছে।

কিছু নেতাকর্মীর নেতিবাচক কর্মকাণ্ড বড় দলগুলোর জনপ্রিয়তায় প্রভাব ফেলেছে।

বিদ্রোহী প্রার্থীদের উপস্থিতি ভোটের অঙ্ককে আরও জটিল করেছে।

মাসুদ কামাল বলেন, ভোটের ফল সবসময় কাগজ-কলে হিসাবের মতো চলে না। শেষ মুহূর্তের জনমতও দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এই পূর্বাভাসকে সম্ভাব্য চিত্র হিসেবে ধরা উচিত। চূড়ান্ত ফলাফল নির্বাচনের দিনই স্পষ্ট হবে।

পাঠকের মতামত:

সর্বোচ্চ পঠিত